বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১৯৯১ সালে একটি ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের পরে নির্বাচন হয়েছিল। তখন তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন হয়েছে। এখন এই নির্বাচন আরো সম্ভব, কারণ জনগণ এটি চায়। জনগণই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সবচেয়ে বড় প্রহরী হয়ে দাঁড়াবে।
আজ বুধবার (৬ আগস্ট) সকালে দলীয় চেয়ারপার্সনের গুলশানের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা (বিএনপি) ও পুরো জাতি মনে করে, দ্রুত নির্বাচনই একমাত্র পথ, যা দিয়ে আমরা বর্তমানে রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণ করে গণতান্ত্রিক উত্তরণ ঘটাতে পারি।
তিনি আরো বলেন, প্রফেসর ইউনূস এখন পর্যন্ত যতগুলো কাজ করেছেন, তাতে উনি প্রমাণ করেছেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও অবাধ করার জন্য উনি এমন কিছু করবেন না, যাতে করে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি মনে করে, এই ঐতিহাসিক ঘোষণায় দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠবে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথকে সুগম করবে। তিনি আরো বলেন, এই নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছে বিএনপি। একইসঙ্গে একটি কার্যকর জাতীয় সংসদ গঠনের জন্য বিএনপি সব রাজনৈতিক দল ও জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছে।
এই নির্বাচন অতি জরুরি উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন এই নির্বাচনটা দেশের জনগণই চায়। জনগণ আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সবচেয়ে বড় প্রহরী হয়ে দাঁড়াবে।
জুলাই ঘোষণাপত্র বিষয়ে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি এই ঘোষণাপত্রকে স্বাগত জানায়। আমরা বিশ্বাস করি, এতে যেসব রাজনৈতিক অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা পালনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি নতুন গণতান্ত্রিক পথে যাত্রা শুরু করবে।
তিনি আরো বলেন, সাম্য, মানবিক মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি সত্যিকারের প্রগতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, যে সব রাজনৈতিক দল, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিকসহ সব স্তরের জনগণ এই সংগ্রামে অংশ নিয়েছে, শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন ও পঙ্গু হয়েছেন বিএনপি তাদের জানাচ্ছে কৃতজ্ঞতা, ধন্যবাদ ও অভিনন্দন।
তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আসবেন। আমরা ওয়েটিং এ আছি।
জুলাই ঘোষণাপত্রের পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভেদ রয়ে গেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ঘোষণাপত্রে প্রধান উপদেষ্টা পরিষ্কারভাবে বলেছেন, আগামী নির্বাচনের পর গঠিত সংসদই সংবিধান সংশোধনসহ প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যকর করবে। এটি আইন ও সংবিধান অনুযায়ী বৈধ প্রক্রিয়া।
তিনি বলেন, এর বাইরে অন্য কোনো প্রক্রিয়ার কথা আমাদের জানা নেই। সংস্কার কমিশন ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দীর্ঘ ধারাবাহিক আলোচনার দ্বিতীয় পর্যায়ে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, তা ‘জাতীয় সনদ জুলাই-২০২৫’ নামে সংকলিত হবে এবং স্বাক্ষরের জন্য তা সব পক্ষকে দেয়া হবে। আমরা সেই স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত।
নির্বাচনের ঘোষণায় কেউ কেউ হতাশ উল্লেখ করে সালাহ উদ্দিন বলেন, আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া হয়তো তারা এখনো তারা দেয়নি, তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় হতাশার কথা তারা বলেছে। তবে আমরা আশা করব তারা একটি পজেটিভ (ইতিবাচক) দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এই গণতান্ত্রিক পথটাকে পরিষ্কার করবে।














