দেশের সর্ববৃহৎ তথ্যপ্রযুক্তি প্রদর্শনী ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬ শুরু হচ্ছে আগামীকাল বুধবার। রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে চারদিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, বাংলাদেশ হাই টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি যৌথভাবে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের প্রদর্শনীতে দেশী ও বিদেশী মোট ৭৪টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ফ্রিল্যান্সার এবং উদ্ভাবনে আগ্রহী ব্যক্তিরাও এতে অংশগ্রহণ করবেন। প্রদর্শনীতে বিভিন্ন মোবাইল ও কম্পিউটার প্রতিষ্ঠান বিশেষ ছাড় ও অফারে তাদের পণ্য প্রদর্শন করবে। পাশাপাশি উদ্ভাবনে আগ্রহীদের জন্য নতুন প্রযুক্তিপণ্য তুলে ধরা হবে।

মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে প্রদর্শনীতে বিভিন্ন সেমিনার ও জ্ঞানভিত্তিক আয়োজন থাকবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, তরুণদের অংশগ্রহণ, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে এ প্রদর্শনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী। তিনি জানান, ভুল তথ্য ও ক্ষতিকর প্রচারণা মোকাবেলায় একাধিক বিভাগ ও সংস্থার সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি কাজ করছে। ১৫ সদস্যের একটি দল নিয়মিত মনিটরিং করছে। একই সঙ্গে ২১ জন প্রকৌশলী সার্বক্ষণিক এ কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্দেহজনক কোনো কনটেন্ট শনাক্ত হলে তা বিশ্লেষণ ও যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে তা জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। সেখান থেকে বিষয়টি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে পৌঁছায়। সাইবার সেফটি অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে কনটেন্ট অপসারণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। গত এক মাসে রিপোর্ট করা কনটেন্টের ২৯ শতাংশ অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ হাই টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, হাই টেক পার্কের সুফল এখন জেলা ও উপজেলা পর্যায়সহ প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছেছে। এবারের প্রদর্শনীতে দেশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীদের সেরা উদ্ভাবন প্রদর্শিত হবে। দেশী ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রা তুলে ধরবে।

বাংলাদেশ হাই টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সদস্য এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ সাইফুল হাসান জানান, এ প্রদর্শনী শুধু প্রযুক্তি প্রদর্শনের জায়গা নয়। এটি বিনিয়োগ সক্ষমতা, নীতিগত প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি ভাবনার প্রতিফলন।

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির মহাসচিব মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, উদ্বোধনের দিন প্রদর্শনী রাত আটটা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে। অন্যান্য দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে পারবেন। প্রদর্শনীতে প্রবেশ বিনামূল্যে হলেও অনলাইনে অথবা সরাসরি এসে নিবন্ধন করতে হবে।

আয়োজকরা জানান, প্রদর্শনীতে বিভিন্ন পণ্যে বিশেষ ছাড় থাকবে। কম্পিউটারের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোনে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেয়া হবে। এতে স্যামসাংয়ের নতুন তিন ভাঁজের স্মার্টফোন প্রদর্শিত হতে পারে। অনার ব্র্যান্ড ভুয়া ভিডিও শনাক্তে সক্ষম একটি নতুন ডিভাইস প্রদর্শন করবে। শাওমি দেবে মূল্যছাড় ও উপহার। লেনোভো দেবে ই বাইক পুরস্কার।

প্রদর্শনীতে থাকবে উদ্ভাবন জোন, ডিজিটাল ডিভাইস জোন, মোবাইল জোন, ইলেকট্রনিক ক্রীড়া জোন এবং ব্যবসা থেকে ব্যবসা জোন। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারিক ও বাণিজ্যিক বিভিন্ন বিষয়ে পাঁচটি সেমিনার এবং চারটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।