একীভূত হয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পাঁচ ব্যাংকের ব্যক্তি আমানতকারীরা আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে চাহিদা অনুযায়ী তাদের আমানতের টাকা তুলতে পারবেন। গ্রাহকদের জমা করা আমানত বা মুনাফার ওপর কোনো ধরনের কর্তন বহাল থাকছে না।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদারের এক বৈঠকে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের চার ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, ড. মো. কবির আহাম্মদ, মো. সরোয়ার হোসেন ও মো. আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে গ্রাহকদের মুনাফায় কোনো কাটছাঁট না করার কথা ব্যক্ত করেছিলেন। তবে আমানতকারীদের বিভ্রান্তি দূর করতে ও পূর্ণ আস্থা ফেরাতে নিয়ন্ত্রণ সংস্থার পক্ষ থেকে নতুন করে এ স্পষ্ট বার্তা দেয়া হয়েছে। ফলে গ্রাহকদের প্রাপ্ত মুনাফায় কোনো ধরনের আমানত কর্তন বা কাটছাঁট করা হবে না।
এর আগে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি একীভূত হতে যাওয়া ওই পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের মুনাফা কর্তনের একটি প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সেদিন ব্যাংকগুলোকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছিল যে গ্রাহকদের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের স্থিতির ওপর কোনো মুনাফা দেয়া হবে না।
আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার চর্চা অনুকরণ করে চলতি বছরের জানুয়ারিতে দুই বছরের মুনাফা না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও গ্রাহকদের তীব্র অসন্তোষের মুখে শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গত বছরের ২৯ ডিসেম্বরের ঘোষিত বিশেষ নীতি অনুযায়ী এরই মধ্যে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেয়া শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা চলতি হিসাব, সঞ্চয়ী হিসাব ও মেয়াদি আমানতের জমা টাকা প্রয়োজন অনুযায়ী তুলতে পারবেন। সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।









