আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৫’ আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ কনফারেন্স সেন্টারে (বিসিএফসিসি) তিন দিনব্যাপী এই মেলা চলবে। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) এই মেলার আয়োজন করছে।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন টোয়াবের সভাপতি মো. রাফেউজ্জামান। মেলার প্রস্তুতি তুলে ধরেন টোয়াবের পরিচালক (বাণিজ্য ও মেলা) তাসলিম আমিন শোভন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের মেলাটি ১৩তম সংস্করণ এবং আগের যে কোনো আসরের তুলনায় বড় ও জাঁকজমকপূর্ণ হবে। মেলায় ৪টি হলে প্যাভিলিয়নসহ ২২০টি স্টল থাকবে। অংশ নেবে ২৫০টির বেশি প্রদর্শক, ২০টিরও বেশি দেশ থেকে ২ হাজারের বেশি বাণিজ্যিক প্রতিনিধি এবং ৫০ হাজারের বেশি দর্শনার্থী। মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রবেশ একেবারে বিনামূল্যে রাখা হয়েছে।
এবারের আয়োজনে নতুন বেশ কিছু বিষয় যুক্ত হয়েছে। প্রথমবারের মতো মেডিকেল ট্যুরিজমের জন্য আলাদা জোন থাকবে। মেলায় প্লাস্টিকের ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। টেকসই পর্যটন প্রচারে দেশের ৮টি বিভাগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী লোকজ কারুশিল্প প্রদর্শনের জন্য আলাদা জোন থাকবে, যেখানে প্রান্তিক কারুশিল্পীরা পণ্য বিক্রির সুযোগ পাবেন। দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য চালু করা হয়েছে মোবাইল অ্যাপ, যেখানে ভেন্যুর ম্যাপ ও স্টলের তথ্য পাওয়া যাবে।
মেলায় সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়সহ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। প্রথমবারের মতো টার্কিশ এয়ারলাইন্স মেলায় অংশ নিচ্ছে। পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কার জাতীয় পর্যটন সংস্থাসহ মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, চীন, সিঙ্গাপুর, জাপান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কের ট্যুর অপারেটররা অংশ নেবেন।
মেলায় থাকবে বি টু বি সেশন, সেমিনার, গোলটেবিল আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন। দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় র্যাফেল ড্র। ভ্রমণ বিষয়ক ছবি, ভিডিও ও গল্প প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। সাংবাদিকদের দেয়া হবে বিশেষ সম্মাননা।
এবারের মেলায় টোয়াব দেশের ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত করবে। এতে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। নির্বাচিতদের পর্যটন খাতে চাকরির সুযোগ দেয়া হবে।
বিটিটিএফকে শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক না রেখে ২০২৬ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন ট্যুরিস্ট জোনে জোনাল মেলার আয়োজন করা হবে। খুলনা, সিলেট, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে এই মেলাগুলো অনুষ্ঠিত হবে, যা স্থানীয় পর্যটন খাতকে উৎসাহিত করবে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান সায়েমা শাহীন সুলতানা বলেন, বিটিটিএফ দেশের পর্যটন শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। সরকার এ আয়োজন সফল করতে সহযোগিতা করবে।
টোয়াব সভাপতি রাফেউজ্জামান বলেন, পর্যটনের টেকসই উন্নয়নই এ মেলার মূল উদ্দেশ্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মেলা দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে।










