সকাল ১০টা। রাজধানী ঢাকার সর্ববৃহৎ পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজার প্রায় ফাঁকা। কারফিউ জারির আগে এ বাজারে থাকত পণ্যবাহী গাড়ি, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের ভিড়। ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যেত। কিন্তু কোটা সংস্কার আন্দোলন কেন্দ্র করে দেশব্যাপী সংঘর্ষ ও কারফিউ জারিতে পণ্যবাহী গাড়ি ঢাকায় আসছে কম। ফলে বেড়েই চলেছে নিত্যপণ্যের দাম। অনেক ব্যবসায়ী এ সুযোগে বিভিন্ন পণ্য মজুদ করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। আবার যারা নিয়মিত পণ্য পাচ্ছেন, তারা বেশি দামে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কারওয়ান বাজার ছাড়াও গতকাল ফার্মগেট, বাংলামোটরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ১০-২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে সবজির দাম। সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় পাওয়া যায়নি অনেক সবজি। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ টাকা করে বেড়েছে কাঁকরোল, গাজর, ঢেঁড়স, মিষ্টিকুমড়া, পেঁয়াজ ও রসুনের দাম। প্রতি কেজি গাজর ১৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০, মিষ্টিকুমড়া ৫০, পেঁয়াজ ১৩০ ও রসুন ২২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। 

কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা আল আমিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রভাবে সারা দেশে গাড়ি চলাচল বন্ধ আছে। পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে না। ঢাকায় সবজি ঢুকতে পারছে না। তাই সবজির দাম কিছুটা বেশি। তবে বিকালের দিকে কাঁচামরিচের চালান এসেছে। তাই দাম স্বাভাবিক হয়েছে। পুরো বাজারে কোনো টমেটো নেই। নতুন চালান না আসায় টমেটো পাওয়া যাচ্ছে না।’

গতকাল মুরগি ও মাছ কেজিতে ৩০-৪০ টাকা করে বেড়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির আগের দাম ছিল ১৫০-১৬০ টাকা, গতকাল বেড়ে হয় ২০০ টাকা। পোলট্রি মুরগি ২৮০ টাকা ছিল, গতকাল তা বেড়ে হয় ৩২০ টাকা। সাড়ে ১১ টাকার ডিম বেড়ে হয়েছে সাড়ে ১৩ টাকা। রুই মাছ, পাঙাশ, তেলাপিয়া মাছ প্রতি কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বাড়লেও ইলিশ মাছ ও চিংড়ি প্রতি কেজিতে ২০০-৩০০ টাকা করে কমেছে! 

মাছ বিক্রেতারা বলেন, ‘ইলিশসহ দামি মাছগুলোর ক্রেতা কম। বিক্রি করতে না পারলে পচে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই কম দামে এসব মাছ বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

কারওয়ান বাজারে দেখা যায়, মাছ, মুরগি ও ডিমের দোকানগুলোয় অন্যান্য দিনের চেয়ে গতকাল ক্রেতার সংখ্যা ছিল কম। কিছু দোকানে ক্রেতা না থাকায় দোকানিদের চেহারায় হতাশার ছাপ দেখা যায়। ক্রেতারা জানান, স্বাভাবিক দামের চেয়ে আজ (গতকাল) মুরগি, মাছ প্রতি কেজিতে ৩০-৪০ টাকা করে বেড়েছে। তাই মাছ-মাংস কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের এক মুরগি বিক্রেতা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রতিদিন যে পরিমাণ মুরগি আসত তা এখন আসছে না। শাটডাউনে ও কারফিউতে ঝুঁকি নিয়ে যে গাড়িগুলো আসছে তা থেকে ২০-৩০ টাকা বেশি দিয়ে আমাদের কিনতে হচ্ছে। তাই বিক্রি করতে হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা বেশি দামে।’ ডিম ব্যবসায়ী নূর আলম বলেন, ‘আমাদের কাছে ডিম আসছে না। যা ছিল তা শেষের পথে। কিছু ডিমের গাড়ি ঝুঁকি নিয়ে আসছে, তারা বাড়তি দাম নিচ্ছে, তাই আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

কারওয়ান বাজারের জহির নামে এক পেঁয়াজ ব্যবসায়ী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রতি কেজি পেঁয়াজ আগে বিক্রি করছি ১১০ টাকা। এখন তা ১১৮-১২০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। কারণ বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কারফিউ জারির পর কমে গেছে।’ রাজধানীতে গাড়ি ঢুকতে না পারায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

আলু ব্যবসায়ীরা বলেন, গতকাল (শুক্রবার) মানুষ অধিক পরিমাণে আলু সংগ্রহ করেছে। আবার আলু বোঝাই করা গাড়িও আসেনি।