দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করতে বান্দরবানের রুমা ও থানচি উপজেলায় জরিপ কার্যক্রম চালাচ্ছে বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাহাড়গুলোর উচ্চতা পরিমাপ করা হচ্ছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে বান্দরবান সার্কিট হাউজে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জরিপ অধিদপ্তরের সার্ভেয়ার জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নুর-এ-আলম মোহাম্মদ যোবায়ের সারোয়ার এ তথ্য জানান।

জানা গেছে, গত ৪ এপ্রিল থেকে এ জরিপ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে দুই উপজেলার সর্বোচ্চ পাহাড়গুলোর উচ্চতা পরিমাপ করে চূড়ান্ত শীর্ষবিন্দু নির্ধারণ করা হবে। এরপর জরিপ প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হবে এবং তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

নুর-এ-আলম মোহাম্মদ যোবায়ের সারোয়ার বলেন, আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে আধুনিক জিওডেটিক পদ্ধতি ও উন্নত উপগ্রহভিত্তিক ন্যাভিগেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের গড় সমুদ্রতল থেকে উচ্চতা নির্ধারণ করা হচ্ছে। এজন্য ডুয়াল ফ্রিকোয়েন্সি জিএনএসএস রিসিভার, আরটিকে রিসিভার, টোটাল স্টেশন, লেভেল মেশিনসহ বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, এ জরিপের মাধ্যমে জিইওআইডি মডেল ব্যবহার করে উপগ্রহ থেকে পাওয়া উচ্চতা সংশোধন করে গড় সমুদ্রতল থেকে নির্ভুল উচ্চতা নির্ধারণ করা হচ্ছে। এতে সেন্টিমিটার স্তরের নির্ভুল তথ্য পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে দেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশও নির্ধারণ করা হবে।

জরিপ অধিদপ্তর জানায়, এ কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ নিয়ে বিদ্যমান বিতর্কের অবসান হবে। তাজিংডং, কেওক্রাডং নাকি সাকা হাফং— কোনটি সবচেয়ে উঁচু, তা সরকারিভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

এছাড়া জরিপ কার্যক্রমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জেলা প্রশাসন সহযোগিতা করছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জরিপ কার্যক্রমটি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নুর-এ-আলম মোহাম্মদ যোবায়ের সারোয়ারের নেতৃত্বে ও মাঠ পর্যায়েউপপরিচালক দেবাশীষ সরকারের তত্ত্বাবধানে জরিপটি পরিচালিত হচ্ছে।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রতিরক্ষা সার্ভের পরিচালক মো. আবদুর রউফ হাওলাদার, উপপরিচালক মেজর মো. তৌহিদুল হক হিমেল, উপপরিচালক দেবাশীষ সরকার এবং সিও মো. বশির আহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন।