বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে (ইউজিসি) কয়েক মাস আগে একটি আবেদন জমা পড়ে। আবেদনটি এসেছে অতীশ দীপংকর ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নামে এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে। আবেদনের বিষয়বস্তু, ‘এমবিএ ইন এগ্রিবিজনেস’ নামের একটি প্রোগ্রাম পরিচালনা করতে চায় বিশ্ববিদ্যালয়টি। এজন্য ইউজিসির অনুমোদন প্রয়োজন।
আবেদনটি এখনো ইউজিসিতে প্রক্রিয়াধীন। নিয়ম অনুযায়ী এ প্রক্রিয়া শেষে ইউজিসি অনুমোদন দিলে তার পরই প্রোগ্রামটি চালু করতে পারবে বিশ্ববিদ্যালয়টি। অনুমোদনের আগে এ প্রোগ্রামের আওতায় শিক্ষার্থী ভর্তিরও কোনো সুযোগ নেই।
তার পরও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টি ঠিক এ কাজই করছে। অতীশ দীপংকরের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এজন্য বিজ্ঞপ্তিও প্রচার করা হচ্ছে। ইউজিসির নীতিমালার লঙ্ঘন হচ্ছে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও।
ইউজিসি বলছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রোগ্রাম অনুমোদনের ক্ষেত্রে নিজস্ব কিছু নিয়মনীতি অনুসরণ করে ইউজিসি। গুরুত্ব পায় বিশেষজ্ঞ মতামত। এ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় সিলেবাস অনুমোদনের ক্ষেত্রেও। প্রোগ্রাম ও সিলেবাস অনুমোদনের আগে শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম ‘সম্পূর্ণরূপে অবৈধ’। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের প্রতারিত হওয়ারও আশঙ্কা থাকে। এছাড়া নানা জটিলতার ঝুঁকি থাকে তাদের চাকরিজীবনেও।
নিয়ম অনুযায়ী ইউজিসিতে এমবিএ ইন এগ্রিবিজনেস প্রোগ্রাম চালুর আবেদন করেছিল অতীশ দীপংকর। অনুমোদনের জন্য খসড়া একটি সিলেবাসও ইউজিসিতে জমা দেয়া হয়েছে। এখনো বিশ্ববিদ্যালয়টিকে এ প্রোগ্রাম পরিচালনার কোনো অনুমোদন দেয়নি ইউজিসি।
যেকোনো প্রোগ্রাম অনুমোদন দেয়ার পর ইউজিসির ওয়েবসাইটে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোফাইলে এ-সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করা হয়ে থাকে। যদিও ইউজিসির ওয়েবসাইটেও অতীশ দীপংকর বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রিবিজনেস বিভাগের অধীনে ‘এমবিএ ইন এগ্রিবিজনেস’ নামের কোনো অনুমোদিত প্রোগ্রাম খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সক্ষমতা যাচাই করে প্রোগ্রামের অনুমোদন দেয় ইউজিসি। অনুমোদনের আগেই শিক্ষার্থী ভর্তির বিজ্ঞপ্তি বা বিজ্ঞাপন প্রকাশ এবং ভর্তি ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। কোনো শিক্ষার্থী এ ধরনের অননুমোদিত প্রোগ্রামে ভর্তি হয়ে প্রতারিত হলে এর দায়ভার ইউজিসি নেবে না।
এ প্রসঙ্গে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ বণিক বার্তাকে বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে কমিশন থেকে প্রোগ্রামের অনুমোদন নিতে হয়। অননুমোদিত প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী ভর্তি বা ভর্তির জন্য কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচার করার সুযোগ নেই। অনুমোদন ছাড়া ভর্তি করানো হলে পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীরাই বিপদে পড়েন। অনেক সময় সনদ যাচাই করতে গেলে দেখা যায়, যে শিক্ষাবর্ষে ভর্তি করা হয়েছে ওই বছর সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামটির অনুমোদনই ছিল না। এসব কারণে চাকরি জীবনে গিয়েও হয়রানির শিকার হতে হয়। তাই সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত আইন ও নিয়মের মধ্যে থেকে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা।
অনুমোদনের আগেই শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির এগ্রিবিজনেস বিভাগের চেয়ারম্যান সোনিয়া তাবাসসুম আহমেদও। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, আমরা ‘এমবিএ’ প্রোগ্রামের জন্য ইউজিসিতে আবেদন করেছি। অনুমোদনের প্রক্রিয়াটি একদম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রোগ্রামের জন্য সিলেবাস প্রণয়ন করে সেটিও ইউজিসিতে পাঠানো হয়েছে। দুয়েক মাসের মধ্যে ইউজিসি থেকে অনুমোদন চলে আসবে। এজন্য আগ্রহ প্রকাশ করায় কয়েকজন শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়েছি। দয়া করে এ বিষয়ে নেতিবাচক কোনো খবর লিখবেন না। তাহলে শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অভিযোগ রয়েছে, অননুমোদিত প্রোগ্রাম পরিচালনার পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও ইউজিসির নীতিমালা মানছে না অতীশ দীপংকর বিশ্ববিদ্যালয়। ইউজিসির নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি প্রোগ্রামে কমপক্ষে চারজন স্থায়ী শিক্ষক থাকতে হবে। এর মধ্যে একজন কমপক্ষে সহযোগী অধ্যাপক পদমর্যাদার হতে হবে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়টির এগ্রিবিজনেস বিভাগে সহকারী অধ্যাপকের ওপরের পদমর্যাদার কোনো শিক্ষক নেই। বিভাগের চেয়ারম্যান একজন সহকারী অধ্যাপক।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে অতীশ দীপংকর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল কাইয়ুম সরদার বণিক বার্তাকে বলেন, আমি যতদূর জানি, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সর্বশেষ সভায় প্রোগ্রামটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সে আলোকে ইউজিসিতেও আবেদন পাঠানো হয়েছে। এর বেশি কিছু বলার নেই।













