যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেক জালিয়াতির মাধ্যমে ৭ কোটি টাকা লোপাটের ঘটনায় জেলাজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। এ ঘটনায় পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে মামলা করে দুদক। এরই মধ্যে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বদলি হয়েছেন। ফলে চার মাস পার হতে চললেও মামলার কার্যক্রমে গতি নেই। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
গত বছর ৭ অক্টোবর যশোর শিক্ষা বোর্ডের ৩৮টি চেকে জালিয়াতির মাধ্যমে লোপাট করা হয় ৭ কোটি টাকা। এ ঘটনার পর বোর্ড কর্তৃপক্ষ যশোর দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করে। তদন্তে নেমেই দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় দুদক কর্মকর্তারা মামলা করেন। এতে আসামি করা হয় পাঁচজনকে। আসামিরা হলেন তত্কালীন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মোল্লা আমীর হোসেন, সচিব অধ্যাপক এএমএইচ আলী আর রেজা, কর্মচারী আবদুস সালাম, জালিয়াতি চক্রের প্রধান ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক রাজারহাট এলাকার বাসিন্দা আবদুল মজিদ আলীর ছেলে শরিফুল ইসলাম বাবু ও শেখহাটী জামরুলতলা এলাকার শাহীলাল স্টোরের মালিক মৃত সিদ্দিক আলী বিশ্বাসের ছেলে আশরাফুল আলম। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ হন দুদকের তত্কালীন উপপরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাত। মামলার কাজ যখন এগিয়ে যাচ্ছিল তখন (ডিসেম্বরে) তদন্তকারী কর্মকর্তা বদলি হন। নতুন উপপরিচালক মো. আল আমিন যোগদান করার এক মাস পূর্ণ হতে চললেও এখন পর্যন্ত তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়নি।
এ বিষয়ে উপপরিচালক বলেন, আমি নতুন এসেছি। এখনো কাগজপত্র বুঝে পাইনি। আশা করছি, শিগগিরই এ মামলার তদন্ত শুরু হবে।
আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ বোর্ড কর্মচারী আবদুস সালাম গত বছর অক্টোবরে দুই দফায় প্রায় ৩১ লাখ টাকা ফেরত দিলেও আর কোনো টাকা পরিশোধ করেননি। ওই টাকা আদায় বা উদ্ধারে শিক্ষা বোর্ডের কোনো উদ্যোগ নেই। দুদকে মামলা হয়েছে এমন অজুহাতে বোর্ড কর্তৃপক্ষ হাত গুটিয়ে বসে আছে। এদিকে নতুন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ না হওয়া, দীর্ঘদিন মামলা বা টাকা উদ্ধার কার্যক্রমে গতি না থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছেন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
টাকা উদ্ধার বা আবদুস সালামের টাকা ফেরত দেয়ার বিষয়ে বর্তমান শিক্ষা বোর্ড সচিব অধ্যাপক মো. আবদুল খালেক সরকার বলেন, ‘আমি কিছুই জানি না।’
পত্রপত্রিকার মাধ্যমে তিনি জেনেছেন বোর্ডের টাকা লোপাটের কথা। এ বিষয়ে তিনি বর্তমান চেয়ারম্যানের সঙ্গে মৌখিকভাবে কথা বলেছেন। সেখান থেকে জানানো হয়েছে, দুদকে মামলা রয়েছে তাই এখন আর কিছু করার নেই।
টাকা লোপাটের ঘটনায় বর্তমান শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহসান হাবীব বলেন, এ ব্যাপারে মামলা হয়েছে। যে কারণে নতুন কোনো উদ্যোগ নেয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি সম্পর্কে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অবগত। সেখান থেকেও কোনো নির্দেশ আসেনি।









