নভেম্বরের শুরু থেকেই রাঙ্গামাটি জেলায় পর্যটকদের উপস্থিতি কমে গিয়েছিল উদ্বেগজনক হারে। বিজয় দিবস ঘিরে পর্যটকের উপস্থিতি কিছুটা বেড়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমাপনী পরীক্ষা শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দুদিনের ছুটিতে পাহাড়ে পর্যটক বেড়েছে।
দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রের একটি হলো রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালি। রাঙ্গামাটি শহরকেন্দ্রিক পর্যটনের বাইরে কাপ্তাই ও বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকরা বেড়াতে আসেন। বছরজুড়ে জেলায় সবচেয়ে বেশি পর্যটকের চাপ থাকে সাজেক ভ্যালিতে। যদিও এবারের পর্যটন মৌসুমের শুরুতেও সাজেক ভ্যালির পর্যটনসংশ্লিষ্টদেরও মন্দা কেটেছে।
রাঙ্গামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শুক্রবার ও শনিবার রাঙ্গামাটিতে তুলনামূলক পর্যটকের উপস্থিতি বেড়েছে। বেশির ভাগ পর্যটক দিনে এসে দিনেই চলে যান। ঝুলন্ত সেতুতে পর্যটকের ভিড় থাকলেও মোটেলে গড়ে ৫০ শতাংশ রুম বুকিং রয়েছে। বেশির ভাগ পর্যটকই বেড়াতে এসে রাঙ্গামাটিতে যাত্রীযাপন করছেন না।’
খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালি ও শহর মিলিয়ে দুই শতাধিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট-কটেজ রয়েছে। দুদিনের ছুটিতে গড়ে প্রায় ৫০-৬০ শতাংশ রুম বুকিং পেয়েছেন হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট-কটেজ ব্যবসায়ীরা। এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, রাঙ্গামাটি শহর ও কাপ্তাই উপজেলায় বেড়াতে আসা পর্যটকের বেশির ভাগই দিনের বেলায় ঘুরে রাতে কিংবা সন্ধ্যায় নিজ গন্তব্যে ফিরে যাচ্ছেন। যে কারণে পর্যটকের উপস্থিতি অনুযায়ী বুকিং অনেকাংশেই কম।
সাজেকে পর্যটক উপস্থিতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিংথাং জাওয়া লুসাই (জেরি) বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সাজেকে ভ্যালিতে অবস্থিত শতাধিক রিসোর্ট-কটেজ পর্যটকরা বুকিং করেছেন। প্রায় সব কটেজ-রিসোর্টই সম্পূর্ণ বুকিং হয়ে আছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে গত নভেম্বর থেকে সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকের সমাগম কমে গিয়েছিল। কোনো দিন পর্যটকশূন্য না থাকলেও দিনে ১০-১৫টির বেশি চাঁদের (জিপ) গাড়ি আসত না। তবে বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে পর্যটকের সমাগম হয়েছে।’
রাঙ্গামাটি জেলা আবাসিক হোটেল বহুমুখী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মঈনুদ্দিন সেলিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গত দুদিনে রাঙ্গামাটিতে পর্যটকের উপস্থিতি কিছুটা বেড়েছে।’










