সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার, কিংবদন্তি অস্ট্রেলিয়ান লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্ন আর নেই। গতকাল থাইল্যান্ডে ৫২ বছর বয়সী ওয়ার্নের মৃত্যু হয়।
থাইল্যান্ডের কোহ সামুই দ্বীপে নিজ বাংলোয় তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ওয়ার্নের ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আমরা গভীর দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে ধারণা করা হচ্ছে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন শেন কিথ ওয়ার্ন। চিকিৎসকদের প্রাণান্ত চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো যায়নি।
ফলে একই দিনে দুই কিংবদন্তি ক্রিকেটারকে হারাল অস্ট্রেলিয়া। গতকাল সকালে মারা যান ৭৪ বছর বয়সী রডনি মার্শ, রাতে শেন ওয়ার্নের মৃত্যুর খবর আসে।
ওয়ার্ন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৪৫ টেস্ট খেলে ৭০৮ উইকেট শিকার করেন। লংকান কিংবদন্তি স্পিনার মুত্তিয়া মুরালিধরনের কাছে রেকর্ড হারানোর আগে তিনিই ছিলেন টেস্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বোলার। এছাড়া ১৯৪ ওয়ানডেতে ২৯৩ উইকেট শিকার করেছেন তিনি।
ওয়ার্ন ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলেছেন ১৯৯৩ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত। ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন তিনি। ৩৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে হয়েছিলেন ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়। আর যুগ্মভাবে সর্বোচ্চ ২০ উইকেট শিকার করেন তিনি। ২০০৭ সালের অ্যাশেজে ঘরের মাঠে ৫-০-তে জয়ের পর অবসর নেন ওয়ার্ন। যদিও ঘরোয়া টি২০ ক্রিকেট খেলে গেছেন ২০১৩ সাল পর্যন্ত।
তার পূর্বসূরি রডনি মার্শও হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দেন। গতকাল কুইন্সল্যান্ডের অ্যাডিলেড হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। অস্ট্রেলিয়ার এ সাবেক উইকেটকিপার গত বৃহস্পতিবার কুইন্সল্যান্ডে একটি চ্যারিটি ম্যাচে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখনই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৯৬টি টেস্ট ম্যাচ খেলা মার্শের দখলে রয়েছে ৩৫৫টি স্ট্যাম্পিংয়ের বিশ্বরেকর্ড। ১৯৭০ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত তিনি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলেন ৯২টি ওয়ানডে ম্যাচও। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার হয়ে নির্বাচক কমিটির প্রধানের দায়িত্বেও ছিলেন মার্শ। দেশের হয়ে ৩ সেঞ্চুরি ও ১৬ হাফ সেঞ্চুরিতে ৯৬ টেস্টে তার সংগ্রহ ৩ হাজার ৬৩৩ রান। ওয়ানডেতে ৯২ ম্যাচ খেলে মার্শের ব্যাট থেকে আসে ১ হাজার ২২৫ রান।
২০০৫ সালে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার হল অব ফেমে নাম অন্তর্ভুক্ত হয় মার্শের। ২০০৯ সালে এ কিংবদন্তি নাম লেখান আইসিসির হল অব ফেমেও।










