মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বিশেষ উপহারের পাকা বাড়ি পেয়ে বদলে গিয়েছে দিনাজপুরের হিলির ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলোর জীবনমান। মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে পাকা বাড়ির সঙ্গে বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানি পাওয়ায় এবং ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা করাতে পারায় দারুণ খুশি এসব অসহায় মানুষ। শুধু পাকা বাড়ি নয়, উপকারভোগীদের জন্য কাজের ব্যবস্থা করাসহ সব ধরনের সহযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, গৃহহীন থাকবে না একটি পরিবার—এমন স্লোগানে মুজিববর্ষ উপলক্ষে হাকিমপুর উপজেলায় ৩৩৫টি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারকে বাড়ি দেয়া হয়েছে। এসব বাড়িতে রয়েছে দুটি বেডরুম, একটি টয়লেট ও একটি স্টোর রুম। সেই সঙ্গে বাড়িতে রয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা।
উপজেলার পালিবটতলী গুচ্ছগ্রামে বাড়ি পাওয়া নাজমুল ইসলাম বলেন, আগে আমরা হিলিতে বালুরচর নামক বস্তিতে ছিলাম। ওটা ছিল রেলের জায়গা। এরপর ভূমি অফিস থেকে আমাদের গুচ্ছগ্রামে সরকারি ঘর দেয়া হবে বলে কাগজপত্র চায়। সে অনুযায়ী ভোটার আইডি কার্ড জমা দিই।
এখানে ঘর পাওয়ায় আমাদের মাথা গোঁজার ব্যবস্থা হয়েছে। তবে অসুবিধা একটাই সেটা হলো এখানে কোনো কাজের ব্যবস্থা নেই। কাজ করতে হিলিতে যেতে হয়। এতে করে যাওয়া-আসার ভাড়াই লাগে ৬০ টাকা করে। এখানে কাজের ব্যবস্থা থাকলে আরো ভালো হতো।
ঘর পাওয়া নাহিদা আকতার বলেন, আগে আমরা খুব খারাপ অবস্থায় ছিলাম। মানুষের জায়গায় ছিটার বেড়া দিয়ে মাটির ঘরে ছিলাম। এখন আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া পাকা বাড়ি পেয়েছি। এখন আমরা বেশ অনেক শান্তিতে রয়েছি। গরু-ছাগল লালন-পালন করছি, বাবা-মায়ের দেখাশোনা করতে পারছি, অনেক সুখেই আছি। আমরা জীবনে কল্পনাও করিনি যে প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা আমাদেরকে ইটের পাকা বাড়ি করে দেবেন, আর আমরা সেখানে থাকব। কিন্তু এখন বাস্তবতা তার দেয়া ইটের পাকা বাড়িতে আমরা বসবাস করছি।
জোসনা বেগম বলেন, আগে তো বাবা আমাদের বাড়িঘর ছিল না। রেলের জায়গায় কোনো রকম ঘর করে ছিলাম। এখন প্রধানমন্ত্রী বাড়ি দিয়েছেন। এখানে আমরা ভালোই আছি। এখানে শাকসবজি আবাদ করি, গাছ লাগিয়েছি। সব মিলিয়ে খুব ভালো আছি। আমরা দোয়া করি শেখ হাসিনা যাতে ভালো থাকেন।
রহিমা বেগম বলেন, আমাদের অবস্থা বর্তমানে খুব ভালো। আগে আমাদের থাকার কোনো জায়গা ছিল না। ছেলেমেয়ে নিয়ে খুব কষ্ট করে জীবনযাপন করেছি। এখন শেখ হাসিনা সরকার আমাদের ঘর দিয়েছে। তা পেয়ে আমরা বেশ ভালোই আছি। কিন্তু তিনি যদি আমাদের কর্মসংস্থানের একটা ব্যবস্থা করে দিতেন, তাহলে সুখে-শান্তিতে জীবনযাপন করতে পারতাম।
ইয়াসমিন আকতার বলেন, আসলে বাপমায়ের বাড়িতে একটা ঘরে সবাই মিলে থাকতাম, খুব কষ্ট হতো। এখন গুচ্ছগ্রামে ঘর পেয়েছি। বর্তমানে আমরা বেশ ভালোই আছি। আমি ক্যাপ তৈরির কাজ করি। আমার স্বামী রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। দুজনের আয় দিয়ে বেশ ভালোই চলে আমাদের সংসার।
খোরশেদ আলম বলেন, আগে আমাদের বাড়িঘর বলতে কিছুই ছিল না। রাস্তার ধারে কোনো রকম ঝুপড়ির মতো করে থাকতাম। এখন ইটের পাকা বাড়ি পাইছি, বিদ্যুৎ পাইছি, ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা করাতে পারছি এতে করে খুব সুবিধা হয়েছে।
ঘর পাওয়া নারী মমতাজ বেগম বলেন, আগে ভাড়াবাড়িতে অনেক কষ্টেই ছিলাম। এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের ঘর দিয়েছেন, আমরা নিজস্ব বাড়িঘর পাইছি। আল্লাহর রহমতে গ্রামে করে খাচ্ছি। সুখেই দিন যাচ্ছে আমাদের।
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-এ আলম বলেন, যেসব পরিবার এরই মধ্যে পুনর্বাসিত হয়েছে তাদের জীবনমান উন্নয়ন ও আত্মপ্রত্যয়ী করে তুলতে আর্তকর্মসংস্থান সুযোগ সৃষ্টির জন্য চেষ্টা করছি। এ উপজেলায় কৃত্রিম চুলের ক্যাপ তৈরির নতুন কাজের সূচনা হয়েছে। আমরা দুটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের নারীদের মাঝে এ কাজের প্রচলন করতে পেরেছি। এছাড়া কৃষি দপ্তরের মাধ্যমে বেশকিছু জায়গায় প্রদর্শনী খামার বা সবজির বাগান করা হয়েছে। যেখানে ১৮টি পরিবার এ কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এছাড়া বেশকিছু পরিবার গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি ও কবুতর পালন করছে। এছাড়া আরো যেসব পরিবার রয়েছে তারা যে ধরনের কাজ করতে ইচ্ছুক তাদের সেই কাজের মাধ্যমে আয়ের ব্যবস্থা করে দিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হচ্ছে।










