চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে রাজস্ব ঘাটতি ১ লাখ কোটি টাকার চেয়ে কম থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। তিনি বলেছেন, সময় শেষ হয়ে যায়নি। আমরা চেষ্টা করব, যতটা সম্ভব লক্ষ্যের কাছাকাছি যেতে। বিশেষ করে জুন মাসে যেসব বড় করদাতার কাছ থেকে বকেয়া রাজস্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেখানে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। আপনারা মে মাসের রাজস্ব সংগ্রহের প্রবণতা এবং জুন মাসের চলমান কার্যক্রম দেখে অনুমান করতে পারবেন। আশা করি, আপনারা যে পরিমাণ ব্যবধান কল্পনা করছেন, বাস্তবে তা তার চেয়ে কম হবে। সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।

আজ রোববার বিকালে ইকোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘অর্থবিল ২০২৬-২৭-এর বিশ্লেষণ’ শীর্ষক এক সেমিনারে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বাজেটে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার আয়ে কর বাড়ানো হয়নি জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সঞ্চয়পত্রের করব্যবস্থা কিছুটা জটিল। অনেকেরই শুধু সঞ্চয়পত্র নয়, পাশাপাশি বেতন, বাড়িভাড়া বা অন্য উৎস থেকেও আয় থাকে। যাদের একাধিক আয় আছে এবং যারা তুলনামূলকভাবে সচ্ছল, তাদের কর কিছুটা বাড়তে পারে। কারণ আগে যেখানে তারা ১০ শতাংশ কর দিতেন, এখন তাদের মোট আয়ের ওপর ২০, ২৫ বা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কর প্রযোজ্য হতে পারে। এটি স্বাভাবিক নীতি—যাদের সামর্থ্য বেশি, তারা বেশি কর দেবেন। আর যাদের অন্য কোনো আয় নেই, তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কর নেয়া হবে না; বরং প্রয়োজন হলে সেই অর্থ সমন্বয় বা ফেরতের সুযোগ থাকবে।

তিনি আরো বলেন, আগের ব্যবস্থায় সঞ্চয়পত্রের সুদের ওপর কাটা উৎসে কর তার অন্য আয়ের করের সঙ্গে সমন্বয় করা যেত না। ফলে তাকে আলাদাভাবে সেই করও বহন করতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় সঞ্চয়পত্রের ওপর কাটা উৎসে কর মোট কর আদায়ের সঙ্গে সমন্বয় করা যাবে। সব ধরনের হিসাব-নিকাশে দেখা গেছে, এ ব্যবস্থায় করদাতার মোট করের বোঝা কমবে, কারণ উৎসে কাটা কর সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে।

সেমিনারে ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন এনবিআরের আয়কর প্রথম সচিব (কর নীতি) জাফর ইমাম, কাস্টমস উইংয়ের প্রথম সচিব তারেক হাসান, মূসক উইংয়ের দ্বিতীয় সচিব বদরুজ্জামান মুন্সি। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা।