রাজশাহীর উপ-কর কমিশনার মহিবুল ইসলাম ভুঁইয়া ঘুসের ১০ লাখ টাকাসহ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে আটক হয়েছেন। গতকাল দুপুরে নিজ দপ্তরে হাতেনাতে আটক হন এ কর্মকর্তা। মহিবুল ইসলাম ভুঁইয়া রাজশাহীর কর সার্কেল-১৩ (বৈতনিক)-এ দায়িত্বপালন করছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুদকের একটি দল বেলা ১১টার দিকে উপ-কর কমিশনার মহিবুল ইসলামের দপ্তরে অভিযান চালায়। এ সময় ভেতর থেকে দরজা বন্ধ ছিল। তখন ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধারে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন কর অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। খবর পেয়ে নগরীর রাজপাড়া থানা পুলিশের একটি দল সেখানে আসে। বেলা আড়াইটার দিকে পুলিশের সহায়তায় দুদক কর্মকর্তারা মহিবুল ইসলামকে আটক করে নিয়ে যান।
অভিযান শেষে সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান জানান, রাজশাহীর মাদারল্যান্ড ইনফার্টিলিটি সেন্টার ও হাসপাতালের মালিক ডা. ফাতেমা সিদ্দিকার কাছে ৬০ লাখ টাকা ঘুস দাবি করেন উপ-কর কমিশনার মহিবুল ইসলাম ভুঁইয়া। চাহিদা মতো টাকা না দিলে তিনি মোটা অংকের করারোপের ভয় দেখান। এ নিয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অভিযোগ দেন ওই চিকিৎসক। পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি ৫০ লাখ টাকায় বিষয়টি মিটমাট করেন। তার প্রথম কিস্তি হিসেবে গতকাল টাকা নিয়ে ফাতেমা সিদ্দিকা তার স্বামীকে নিয়ে মহিবুল ইসলাম ভুঁইয়ার দপ্তরে যান। ঘুসের ১০ লাখ টাকা নিয়ে ওই কর কর্মকর্তা নিজের ড্রয়ারে রাখেন। তখনই সেখানে উপস্থিত হন দুদক কর্মকর্তারা। তাকে ঘুসের টাকাসহ হাতেনাতে আটক করা হয়। এ ব্যাপারে দুদক আইনে মামলা করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী কর কমিশনার মো. শাহ আলী বলেন, ‘দুদক একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। এটা নিয়ে কোনো আপত্তি নেই। বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে জানানো হয়েছে। বোর্ড থেকে এখন যে ধরনের নির্দেশনা আসবে সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
এদিকে পুলিশের সহায়তায় দুদকের গাড়িতে তোলার সময় মহিবুল ইসলাম ভুঁইয়া দাবি করেন, ডা. ফাতেমা সিদ্দিকার ব্যাংকে যে পরিমাণ টাকা আছে তিনি তার চেয়েও বেশি টাকার জমি কিনেছেন। তার ২৬ কোটি টাকার আয়করের গরমিল আছে। এজন্য তার কাছ থেকে আয়কর আদায়ের চেষ্টা করছিলেন তিনি। কিন্তু উল্টো তাকেই ফাঁসানো হয়েছে।
অভিযানের সময় কর ভবনেই ছিলেন ডা. ফাতেমা সিদ্দিকা। তবে অভিযোগের বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমে মুখ খোলেননি।










