বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে সরকারকে চাপ দিতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বৈশ্বিক ক্রেতাদের সংগঠন আমেরিকান অ্যাপারেল অ্যান্ড ফুটওয়্যারকে (এএএফএ) সম্প্রতি চিঠি দিয়েছেন দেশটির আট কংগ্রেসম্যান। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ‘আমি কংগ্রেসম্যানদের ধন্যবাদ দিই। তারা একটা কাজ করতে পারেন। আমাদের শ্রমিকের (ন্যূনতম) বেতন ৮ হাজার টাকা ছিল, প্রধানমন্ত্রী ৫৬ শতাংশ বাড়িয়ে সাড়ে ১২ হাজার করেছেন। ওরা (মার্কিন কংগ্রেসম্যান) প্রায় তিন গুণ বাড়াতে চাচ্ছেন। ৮ হাজার থেকে ২৩ হাজার করতে চাচ্ছেন। নিউইয়র্কে প্রতি ঘণ্টায় শ্রমিকের মজুরি ১৫ ডলার। তারা যদি মজুরি ঘণ্টায় ১৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৪৫ ডলার করে তখন আমরাও তাদের পথ অবলম্বন করব।’

গতকাল সিলেটে নির্বাচনী প্রচারকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় বিএনপির নেতৃত্বের পরিপক্বতার অভাব আছে বলে জানান ড. মোমেন। তিনি বলেন, ‘দলটি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিয়ে একটি সুযোগ হারিয়েছে।’

বিএনপির অসহযোগ আন্দোলনের ডাক নিয়ে ড. মোমেন বলেন, ‘এগুলো কোনো কাজে আসবে না। তারা ভুল করেছে, এখন নিজেরা পস্তাচ্ছে। তাদের নির্বাচনে আসা উচিত ছিল, কিন্তু আসেনি। এখন তাদের নেতৃত্ব বজায় রাখার জন্য এগুলো। তারা একটা সুযোগ হারিয়েছে। বিএনপি নির্বাচনে এলে তাদের নেতাকর্মীরা কিছু চাঙ্গা হতো। রাজনীতি মানুষের জন্য। রাজনীতি মানুষ ধ্বংস করে হয় না। রাজনীতি দেশের জন্য। রাজনীতি মানে বাস-ট্রাক-রেলওয়ে জ্বালানো না। তাদের পথটা ঠিক না। তাদের নেতৃত্বের পরিপক্বতার অভাব, এজন্য তারা সুযোগ হারাচ্ছে।’

নির্বাচনের দিন ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর ব্যাপারে তার দলের পরিকল্পনা সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সেজন্য বিভিন্ন জায়গায় যাব। মানুষের ঘরে ঘরে যাব। তবে দুঃখজনক ব্যাপার হলো, শিক্ষিত মানুষ বা একটু পয়সাওয়ালা লোকেরা ভোট কেন্দ্রে যায় না। তাদেরও আমরা অনুরোধ করব তারা যেন ভোট কেন্দ্রে আসেন। দেশের সাধারণ মানুষ বেশি ভোট দেয়। তাদের কাছে আমরা যাব, তারা যেন ভোট কেন্দ্রে আসে। ভোট কেন্দ্রে এসে যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দেয়।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং সংঘাতবিহীন নির্বাচন চাই। পৃথিবীকে আমরা আদর্শ দেখাতে চাই। আমরা সেই দেশ, যে দেশে ৩০ লাখ মানুষ প্রাণ দিয়েছে গণতন্ত্রের জন্য, ন্যায়বিচারের জন্য। আর কোথাও এত লোক প্রাণ দেয়নি।’

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফয়জুল আনোয়ার আলাওল, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আরমান আহমদ শিপলুসহ অনেকে।