চলতি মৌসুমে বোরো ধানখেতে ব্লাস্টের আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাতক্ষীরার কৃষকরা। ধানে শীষ আসার সময় ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয়ায় বহু কৃষক সর্বস্বান্ত হতে চলেছেন। এদিকে বোরো চাষীদের ধানে ব্লাস্ট রোগ থেকে রক্ষা করতে সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি গ্রামের কৃষক জালাল উদ্দিন, রকিব উদ্দিন ও হিযবুল্লাহ হোসেন জানান, তারা প্রত্যেকে তিন-চার বিঘা জমিতে ব্রি-২৮ জাতের বোরো ধান চাষ করেছেন। চারা রোপণের পর রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সার, কীটনাশক ও অন্যান্য ওষুধ ব্যবহার করে আসছেন নিয়মিত। কিন্তু গাছে শীষ আসা শুরু হওয়ার পর থেকে ব্যাপক হারে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। তারা আরো জানান, ব্লাস্টের কারণে ধানের শীষ ও গাছ কালো হয়ে ধান ঝরে যাচ্ছে। ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, শুরু থেকে বিভিন্ন ওষুধ কীটনাশক ব্যবহার করেও কোনো প্রতিকার পাননি। ফলে বিঘাপ্রতি ১২-১৩ হাজার টাকা খরচ হয়ে হয়ে গেছে এ পর্যন্ত। একই এলাকার কৃষক মিজানুর রহমান জানান, ১৫ দিন আগেও তার খেতে চোখজুড়ানো ধানের শীষ দুলছিল। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্লাস্টের আক্রমণে বোরো ধান সব শেষ। এখন বোরো খেতে গেলে মনে হচ্ছে আগুনে পুড়ে গেছে ধান। শীষ কালচে রঙ ধারণ করে ধান ঝরে গেছে। সদর উপজেলার পাশাপাশি জেলার অন্যসব উপজেলায়ও ছড়িয়ে পড়েছে বোরো খেতে ব্লাস্ট রোগ।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নুরুল ইসলাম বোরো খেতে ব্লাস্ট রোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কৃষকদের পরামর্শ দেয়ার জন্য উপজেলা পর্যায়ে মাইকিং করা হচ্ছে। এ রোগ থেকে রক্ষা পেতে কৃষকদের টুপার এবং লাটিবো স্প্রে করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে তাড়াতাড়ি এটি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। তবে হঠাৎ এ রোগের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এটি বীজবাহিত রোগ। যারা বীজ সংরক্ষণ করেন সেখান থেকে মূলত এ রোগ ছড়ায়। তাছাড়া জেলায় সবচেয়ে বেশি পরিমাণ বোরো চাষ হয় ব্রি-২৮ জাতের। আর ব্লাস্ট রোগ কেবল ব্রি-২৮ জাতেই দেখা দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, এ পর্যন্ত খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, জেলায় ২০০-২৫০ হেক্টর জমিতে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত যাতে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সে চেষ্টা করা হচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, চলতি ২০২২ বোরো মৌসুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় ৩ লাখ ১৩ হাজার ৫৬০ টন বোরো চাল উৎপাদন লক্ষ্য নিয়ে ৭৭ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে সতক্ষীরা সদর উপজেলার ২৩ হাজার ২৪০ হেক্টর, কলারোয়ার ১২ হাজার ৫৫০, তালার ১৯ হাজার ৫৫৫, দেবহাটার ৫ হাজার ৬২০, কালিগঞ্জের ৬ হাজার ৫, আশাশুনির ৭ হাজার ৭৫০ এবং শ্যামনগরের ২ হাজার ২০০ হেক্টর। তবে চলতি মৌসুমে বেশি জমিতে চাষ করা হয়েছে উচ্চফলনশীল জাতের বোরো ধান। এর মধ্যে রয়েছে ব্রি-২৮, ৬৭, ৬৩, ৫১, ৫৯ এবং শক্তি-২ ও তেজগোল্ড। তবে গত মৌসুমের তুলনায় চলতি ২০২২ মৌসুমে জেলায় বোরো চাষ বেশি হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ। গত মৌসুমে জেলায় ৭৩ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে এবং চলতি মৌসুমে হয়েছে ৭৭ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে।









