সংবিধান অনুসারে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ‘প্রিভিলেজড; তার দায়মুক্তি আছে’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের সময় মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধান ও বিধিবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে সে সময়ের কোনো অভিযোগ থাকলে তা আইন অনুযায়ী চলবে।

সচিবালয়ে পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের পুরস্কার অনুষ্ঠান শেষে আজ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

এনসিপিসহ বিরোধী দলগুলো মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে এ বিষয়ে সরকার আমলে নেয়ার মতো কোনো বিষয় দেখেনি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, ‘এখন যারা তার (সাবেক রাষ্ট্রপতি) বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছে, তাদের সেটা অধিকার আছে। আমরা গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে কী প্রত্যাশা করি? রাজনৈতিকভাবে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে, প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা থাকবে। সেটা আছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিরোধীদলের পক্ষ থেকে এনসিপি এবং অন্যান্যরা তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উত্থাপন করছে। সেটা করতে পারে। কিন্তু আমরা আমলে নেয়ার মতো কোনো বক্তব্য ওখানে নেই।’

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘সেই সময় তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে, সেটা সেই সময়কার বিষয়। সেটা আইন অনুসারে চলবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের সময় স্বৈরাচারের শেষ দিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের পুরোটা এবং বর্তমান রাজনৈতিক সরকারের সময়ে তিনি বিধিবিধান ও সংবিধান অনুসারে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমরা রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা পেয়েছি। সংবিধান অনুসারে তিনি প্রিভিলেজড; তার ( ইমিউনিটি) দায়মুক্তি আছে। ফৌজদারি অপরাধ বা অন্য বিষয়ে আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না। এর বাইরে যদি কেউ বক্তব্য দিয়ে থাকেন, সেই স্বাধীনতা তাদের আছে। দিতে পারেন। কিন্তু আমলে নেওয়ার মতো কিছু দেখি না।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন আইন অনুসারে যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার, সেটা তিনি পাবেন। তার সুরক্ষার জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টসহ (পিজিআর) অন্যান্য সুবিধা ছয় মাসের জন্য পাবেন। পুলিশসহ অন্যান্য নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন।

সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন লন্ডনে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন–এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।