দেশের চার জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ভোলায় দুজন, বগুড়ায় দুজন রয়েছেন। এছাড়া নাটোর ও বরিশালে আরো দুজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। গতকাল দিনের বিভিন্ন সময় এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৮ জন। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে—
ভোলা: জেলার চরফ্যাশন ও বোরহানউদ্দিনে গাড়ির ধাক্কায় মো. রায়হান মাহমুদ (২৬) ও আব্দুর রহমান নামে দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। গতকাল দুপুরে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রায়হান মাহমুদ বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পাটোয়ারী বাড়ির মো. গোলাম মাওলার ছেলে। আর আব্দুর রহমান পটুয়াখালীর বাসিন্দা। তিনি চরফ্যাশন উপজেলায় স্কয়ার কোম্পানির এরিয়া ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রায়হান মাহমুদ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মোটরসাইকেলে উদয়পুর রাস্তার দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় টবগী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নায়েব বাড়ির সামনে অপরদিক থেকে আসা ট্রলির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
বোরহানউদ্দিন থানার ওসি মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, ট্রলি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছেন। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অন্যদিকে দুপুরে চরফ্যাশন উপজেলার বিআরডিবি মোড়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের সঙ্গে আব্দুর রহমানের মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চরফ্যাশন থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান জানান, বিআরডিবি এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি পিকআপের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আব্দুর রহমান প্রথমে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
বগুড়া: শেরপুর উপজেলায় ট্রাকের ধাক্কায় পথচারী ও ভটভটির এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন ভটভটিতে থাকা অন্তত ২১ শ্রমিক। গতকাল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার রণবীরবালা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন খামারকান্দি ইউনিয়নের ঝাজর গ্রামের মৃত কছিম উদ্দিনের ছেলে হারুন অর রশিদ (৪৮) ও হোসনাবাদ গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমান প্রামাণিক হানিফ উদ্দিন (৩৬)।
শেরপুর থানা পুলিশ জানায়, একটি ট্রাক বগুড়ার ধুনট থেকে শেরপুর উপজেলায় যাচ্ছিল। পথে রণবীরবালা বশীর পাগলা মাজারের কাছে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা হানিফ নামের একজনকে চাপা দেয় ট্রাকটি। এরপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী একটি ভটভটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাক ও ভটভটি উল্টে পথচারী হানিফ ও ভটভটিতে থাকা হারুন অর রশিদ ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত হন ভটভটিতে থাকা ২১ শ্রমিক।
আহত শ্রমিক মো. হারান জানান, তারা সকালে ঝাজর এলাকা থেকে ভটভটিতে ১৭ জন নারী ও পাঁচজন পুরুষ আলু তোলার কাজে শেরপুর উপজেলার কুসুম্বি যাচ্ছিলেন। এ সময় রণবীরবালা এলাকায় পৌঁছালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
শেরপুর ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউজ ইনচার্জ বখতিয়ার উদ্দিন জানান, আহতদের উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ হাইওয়ে ও থানা পুলিশ উদ্ধার করেছে।
নাটোর: গুরুদাসপুরে যাত্রীবাহী বাস উল্টে খাদে পড়ে আল আমিন নামে এক সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ছয়জন। গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের ১০ নম্বর ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশের ওসি ইসমাইল হোসেন জানান, নাটোর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আরপি স্পেশাল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এ সময় যাত্রীবাহী বাসটি উল্টে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সেনা সদস্য আল আমিন মারা যান।
বরিশাল: বাবুগঞ্জে বাসচাপায় মো. সজীব হাওলাদার (২৫) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরো একজন। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের রহমতপুর ব্রিজের ঢালে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে এয়ারপোর্ট থানার ওসি জাকির শিকদার জানিয়েছেন।
নিহত মো. সজীব সদর উপজেলার কাশিপুর বিহঙ্গল জাম্বুরতলা এলাকার মানিক হাওলাদারের ছেলে। তিনি বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। আহত মিরাজ (২৫) বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি নগরীর পলাশপুর এলাকার বাসিন্দা।
এয়ারপোর্ট থানার ওসি জাকির শিকদার বলেন, ‘দুই বন্ধু মোটরসাইকেলে মীরগঞ্জ থেকে কামিনী পেট্রল পাম্পের দিকে যাচ্ছিল। রহমতপুর ব্রিজের ঢালে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী মোড়ল এক্সপ্রেস পরিবহনের একটি বাস তাদের মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত দুজনকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সজীবকে মৃত ঘোষণা করেন।










