জেলার পাঁচ উপজেলার ৪২ স্থানের ভাঙনকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, জেলায় দুই থেকে তিন বছর ধরে ভাঙন প্রতিরোধে কোনো অর্থ বরাদ্দ নেই। ফলে নতুন বাঁধ নির্মাণ ও পুরনো বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় নদীভাঙনের তীব্রতা বহুলাংশে বেড়েছে। পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মধুমতি ও এর শাখা নদীর তীরবর্তী ১৩ স্থান, কাশিয়ানী উপজেলায় মধুমতি ও কুমার নদসহ শাখা নদীর ১৯ স্থান, টুঙ্গিপাড়ায় মধুমতি ও বাঘিয়ার নদী তীরবর্তী নয় স্থান এবং কোটালীপাড়ায় এক জায়গায় নদীপাড় ও বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
সরজমিনে দেখা গেছে, নদী তীরবর্তী বহু পরিবার বর্তমানে বাস্তুচ্যুত হওয়ার মুখোমুখি। ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। টুঙ্গিপাড়ার গিমাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা কামরুল শেখ জানান, পাঁচ বছর আগের তৈরি করা বাঁধ ভেঙে নদী এখন তার বসতঘর থেকে মাত্র চার থেকে পাঁচ হাত দূরে অবস্থান করছে। একই এলাকার শুকুর আলী শেখ জানান, যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি নদীতে বিলীন হওয়ায় তারা এখন চরম দুর্ভোগে আছেন। অন্যদিকে সদরের মানিকহার গ্রামের চরপাড়ার বাসিন্দা হেদায়েতুল ইসলাম খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে বিপুল পরিমাণ জমি নদীতে হারালেও এখনো সরকারিভাবে একটি বালির বস্তাও ফেলা হয়নি।’
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে নদীভাঙন রোধে এবং তীরবর্তী মানুষের দুর্ভোগ কমাতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান মোল্লা, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কেএম বাবর এবং গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জিলানী।
ডা. কেএম বাবর বলেন, ‘তাৎক্ষণিক ভাঙনরোধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্লক ও জিও ব্যাগ ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বর্ষার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আবারো যোগাযোগ করা হবে।’
গোপালগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিস হায়দার খান জানান, ৪২টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রায় ৫০ কোটি টাকার বাজেট নির্ধারণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘদিন বরাদ্দ না থাকায় সংকট বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হলে চলতি বছর নদীভাঙনের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।’










