গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল শিল্পের আধুনিক প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি ও নতুন পণ্য প্রদর্শন এবং দেশী-বিদেশী ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়াতে আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকায় শুরু হচ্ছে চার দিনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী। সেমস-গ্লোবালের আয়োজনে রাজধানীর পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিসিএফইসি) ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে ২৫তম টেক্সটাইল সিরিজ অব এক্সিবিশনস ২০২৬।

এবার একই ছাদের নিচে তিনটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হচ্ছে। এগুলো হলো—২৫তম টেক্সটেক বাংলাদেশ ২০২৬ ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো, ২৬তম ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার্ন অ্যান্ড ফেব্রিক শো ২০২৬–সামার এডিশন এবং ৫৩তম ডাই + কেম বাংলাদেশ ২০২৬ ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো।

আয়োজকদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, প্রদর্শনীতে বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশের প্রায় ১ হাজার ৮৪০টি কোম্পানি অংশ নেবে। এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য ২ হাজার ২৫০টির বেশি বুথ ও প্যাভিলিয়ন থাকবে। চার দিনের আয়োজনে প্রায় ১৬ হাজার ব্যবসায়িক দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

প্রদর্শনীতে টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল শিল্পের বিভিন্ন ধরনের আধুনিক যন্ত্রপাতি, মেশিনারি, কেমিক্যাল, ইয়ার্ন, ফেব্রিক, অ্যাকসেসরিজ, ডাইং ও ফিনিশিং প্রযুক্তিসহ নতুন নতুন প্রযুক্তি ও সমাধান প্রদর্শিত হবে। ফলে দেশীয় উৎপাদক, আমদানিকারক, ক্রেতা ও সরবরাহকারীদের মধ্যে সরাসরি ব্যবসায়িক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে।

প্রদর্শনীর পাশাপাশি চারটি আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করা হবে। এসব সেমিনারে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), অটোমেশন, ক্লাউড সিস্টেম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল মেশিনারিজসহ আধুনিক প্রযুক্তি ও শিল্পের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সেমস-গ্লোবাল ইউএসএ অ্যান্ড এশিয়া প্যাসিফিকের প্রেসিডেন্ট ও গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর মেহেরুন এন ইসলাম প্রদর্শনীগুলোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে সেমস-গ্লোবালের গ্রুপ সিইও এস এম সারওয়ার, নির্বাহী পরিচালক তানভীর কামরুল ইসলাম এবং গ্রুপ ডিরেক্টর অভিষেক দাস উপস্থিত ছিলেন।

মেহেরুন এন ইসলাম বলেন, এসব প্রদর্শনী বাংলাদেশের গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজন। দেশী-বিদেশী ক্রেতা, সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ীদের একই প্লাটফর্মে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হওয়ায় বাণিজ্য সম্প্রসারণে এর ভূমিকা রয়েছে।

আয়োজকদের মতে, গত ২৫ বছরে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পে প্রযুক্তি, উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্য বৈচিত্র্য ও আন্তর্জাতিক মানের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এ ধারাবাহিকতায় টেক্সটাইল সিরিজ অব এক্সিবিশনস দেশের উৎপাদন শিল্প ও বৈশ্বিক টেক্সটাইল সরবরাহব্যবস্থার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ হিসেবে কাজ করছে।

প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ব্যবসায়িক দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।