রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে এবং দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো সংসদ সদস্য ভোট দিলে তার সদস্যপদ বাতিল হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি। খবর বাসস।

আজ সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

চিফ হুইপ বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু সংশোধন হয়নি, তাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এটি কার্যকর থাকবে।

নিজ দলের পছন্দের প্রার্থীর বাইরে কোনো সংসদ সদস্য ভোট দিতে পারবেন কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সদস্যপদ বাতিল হবে।

তিনি আরো বলেন, জুলাই সনদে ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে চারটি ক্ষেত্রে ঐকমত্য রয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনও রয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম মণি জানান, আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেদিন বেলা ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ হবে। সংসদ সদস্যরা তাদের আসন ও বিভক্তি নম্বর অনুযায়ী ভোট দেবেন। সরকারি দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী মনোনয়ন দেবেন এবং মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।

তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও স্পিকারের ভোট দেয়ার দৃশ্য গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের সুযোগ থাকবে। ভোটগ্রহণ শেষে ব্যালট গণনা ও ফলাফল প্রস্তুতের কার্যক্রমও ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে।

চিফ হুইপ বলেন, সংসদে মোট ৩৪৯ জন ভোটার রয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই ভোটগ্রহণ শেষ হলে দ্রুত গণনা করে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। তবে কোনো ভোট বাকি থাকলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে— এরপর ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রার্থী হিসেবে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে কর্নেল (অব) অলি আহমদকে মনোনয়ন দেয়ার কথা জানান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, প্রায় ৩৫ বছর ধরে দেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়নি। গণতন্ত্রের স্বার্থে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রয়োজন বলেই বিরোধী দল প্রার্থী দিয়েছে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, সনদের প্রতিটি অক্ষর, দাঁড়ি, কমা ও সেমিকোলন যেভাবে আছে, সেভাবেই বাস্তবায়ন করা হবে। সবাই মিলে যে সনদে স্বাক্ষর করেছেন, সেটি বাস্তবায়ন করা সরকারের কমিটমেন্ট।

তিনি জানান, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী সংসদ অধিবেশনেই একটি নতুন বিল আনা হবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম সরকার করবে।

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশের মতো বাংলাদেশেও সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে।

ভারতের সংবিধানের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ১৯৫০ সালে সংবিধান গ্রহণের পর ২০২৪ সাল পর্যন্ত ভারতীয় সংবিধান ১০৬ বার সংশোধন করা হয়েছে। প্রতিবার সংশোধনের মাধ্যমে পরিবর্তন আনা হয়েছে; নতুন করে সংবিধান রচনা বা সংবিধান সংশোধন পরিষদ গঠন করা হয়নি।