আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার মরে গেছে আদালতের রায়ে। এটাকে আর জীবিত করে লাভ নেই। নির্বাচন হবে নির্বাচনের জন্য। বাংলাদেশে কারো ফরমায়েশে নির্বাচন হবে না।’

গতকাল নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভা মিলনায়তনে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘দুনিয়ার সব দেশে তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া ইলেকশন হয়। বাংলাদেশে কেন ইউরোপ-আমেরিকার নেতারা আসে। আমি জিজ্ঞেস করি, আপনাদের কোন দেশে তত্ত্বাবধায়কে ভোট হয়েছে? ইউরোপও বলতে পারেনি, আমেরিকাও বলতে পারেনি। আমরা অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য ভোট করব। এ প্রতিশ্রুতি আমি দিতে পারি। গণতান্ত্রিক বিশ্বকে বলব, পর্যবেক্ষক দিয়ে এ ভোট পর্যবেক্ষণ করুন।’  

বিদেশীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচন দেখলেন। এটা মাইনর সিট, অথচ পাঁচটি সিটিতে এক মাস হয়নি ইলেকশন হলো শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু। ওই নির্বাচনে ৫০-৫৩ পার্সেন্ট ভোট পড়ল।’

বিএনপির সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি আরেকবার ক্ষমতায় গেলে এরা আবারো হাওয়া ভবন করবে। গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার আদর্শ, দেশের উন্নয়ন গিলে খাবে। সুযোগ পেলে বাংলাদেশ গিলে খাবে। এ দলের কাছে গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধ, আইনের শাসন, দেশের নিরাপত্তা, নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা নিরাপদ নয়। বিএনপি মানে ভোট চুরি, ভোট জালিয়াতি, বিএনপি মানে ভুয়া ভোটার তালিকা। বিএনপি নালিশ পার্টি। এখন দেখছে নালিশ করতে করতে আর কাজ হচ্ছে না। এখন বিএনপি খাইদাই পার্টি। ক্ষমতার জন্য পাগল হয়ে গেছে, বেপরোয়া হয়ে গেছে। তাদের এখন ক্ষমতার দরকার নেই, বিএনপির লক্ষ্য একটাই, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করা।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি বিদেশীর কাছে নালিশ করতে করতে কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। ইউরোপ-আমেরিকা এসেছে। বিএনপি ভেবেছে, নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এ সরকারকে বিদায় দেবে। পাইলেন কী ঘোড়ার ডিম। ইউরোপ-আমেরিকা কী দিল। এখন বিএনপি নেতাদের মুখ শুকিয়ে গেছে। নেতারা মুখে বলেন না, পত্রিকায় গালিগালাজ করেন। নোয়াখালীতে বিএনপি নেতারা এসে প্রধানমন্ত্রী ও আমাকে নিয়ে মির্জা ফখরুল নিজে ও তার নেতারা গালিগালাজ করেছেন। তিনি একজন শিক্ষক হয়ে এত খারাপ কথা, এত নোংরা কথা তার মুখ দিয়ে কেমন করে বের হয়।’

উন্নয়ন নিয়ে বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি বুঝতে পেরেছে, ভোট দিলে এখন আওয়ামী লীগই জিতবে। বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ লোক শেখ হাসিনাকে ভোট দেয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে। আমি যা বললাম, বাস্তবে সেটা দিনক্ষণ লিখে রাখুন। কিছু তো দেখেন না। উন্নয়ন দেখেন না। নিজেরা তো কিছু করতে পারেন না। শেখ হাসিনা করেছেন পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল। দেখলে বিএনপি নেতাদের বুকের জ্বালা বাড়ে।’

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘নিজেদের আচরণ সংযত করুন। শেখ হাসিনা উন্নয়ন করেছেন, আপনারা ভালো আচরণ করুন মানুষের সঙ্গে। ক্ষমতার দাপট দেখাবেন না। ক্ষমতা চিরদিন থাকে না।’

নেতাকর্মীদের স্লোগানের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি একটা স্লোগান শুনেছি। এ স্লোগান যেন আর না শুনি। রক্তের বন্যা মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান না। ভেসে যাবে অন্যায়। এ স্লোগান কেন আমরা দেব, কী প্রয়োজন। রক্তের বন্যা আমরা বহাতে যাব কেন। আমরা শান্তি চাই, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই। তবে যে আগুন নিয়ে আসবে সে হাত গুঁড়িয়ে দেবেন। যে হাত ভাংচুর করতে আসবে সে হাত আমরা ভেঙে দেব। আমরা আক্রমণকারী হব না। আক্রান্ত হলে পাল্টা জবাব দেব।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘২৭ জুলাই ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশ, এ নিয়ে আমাদের কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। আমাদের আগস্ট, সেপ্টেম্বর, জুলাইয়ের বাকি কয়দিন ও অক্টোবর নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি জাতীয় উন্নয়ন শোভাযাত্রা।’

সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যক্ষ খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন।

এ সময় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খান ও বসুরহাট পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রশীদ মঞ্জু উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল কাদের মির্জা।