বন বিভাগের বান্দরবান পাল্পউড প্লান্টেশন বিভাগের (পিপিডি) নিলাম বিজ্ঞপ্তির শর্ত ভঙ্গ করে শিডিউল বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, পিপিডি বান্দরবান বিভাগীয় বন কর্মকর্তার (ডিএফও) স্বাক্ষরিত নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে এক সপ্তাহ মেয়াদে বিক্রি করার কথা উল্লেখ থাকলেও কেবল শেষের দিন শিডিউল বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে আটটি রেঞ্জ ও একটি স্টেশনের আওতায় বিভিন্ন স্থানে থাকা কাঠের নিলাম হওয়ার কথা বলা হলেও কেবল একটি রেঞ্জের আওতায় থাকা কাঠের লট তালিকা করে শিডিউল বিক্রি করেছে বন বিভাগ।
অন্যদিকে ডিভিশনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের নোটিস বোর্ডেও এ-সংক্রান্ত নোটিস টাঙানো হয়নি। ফলে অধিকাংশ কাঠ ব্যবসায়ী এ নিলামের বিষয়ে জানতে পারেননি। এ কারণে শর্ত ভঙ্গ করে শেষের দিনে বিক্রি করা শিডিউলের একটিও বিক্রি হয়নি বলে জানা গেছে।
পিপিডি বান্দরবান অফিস সূত্র জানায়, গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর একটি নিলাম বিজ্ঞপ্তির অনুমোদন দেন পিপিডি বান্দরবান বিভাগীয় বন কর্মকর্তা। বিজ্ঞপ্তির শেষ অংশে পিপিডির আটটি রেঞ্জ ও একটি স্টেশনের আওতায় বিভিন্ন স্থানে থাকা নানা প্রজাতির কাঠগুলো নিলাম দেয়ার কথা বলা হয়েছে। নয়টি রেঞ্জ হলো সদর, তারাছা, চেমী, পলি, রোয়াংছড়ি, পাইনক্ষ্যং, মিবাক্ষ্যা, রেমাক্রী প্রাংসা রেঞ্জ ও তারাছা মুখ স্টেশন।
চলতি মাসের ৭-১৪ তারিখ পর্যন্ত দরপত্র শিডিউল বিক্রি করতে বলা হয়েছে। গতকাল দুপুর ১২টার মধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়, পাল্পউড প্লান্টেশন বিভাগ, বান্দরবানে রাখা টেন্ডার বক্সে দরপত্র দাখিল করার কথা বলা হয়েছিল।
গত বৃহস্পতিবার বিকালে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে তার কক্ষে এসব বিষয় নিশ্চিত করেছেন সহকারী বন সংরক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন সরকার। ওইদিন বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, আগামী রোববার অর্থাত্ ১৪ মার্চ নির্ধারিত রেঞ্জগুলোর তালিকাভুক্ত কাঠ নিলামের শিডিউল বিক্রি করা হবে। প্রতি শিডিউলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ টাকা, যা সদর রেঞ্জ থেকে যে কেউ সংগ্রহ করতে পারবেন বলে জানান তিনি।
গতকাল মাহতাব নামের এক কাঠ ব্যবসায়ী বণিক বার্তাকে বলেন, রোববার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে একটি সূত্রে খবর পাই, বান্দরবান পাল্পউড বিভাগে সকাল থেকে শিডিউল বিক্রি হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে ৪০ কিলোমিটার দূর থেকে তড়িঘড়ি করে শিডিউল কিনতে আসি। কিন্তু অফিসে পৌঁছতে পৌঁছতে সোয়া ৫টা বেজে যায়। সময় পেরিয়ে গেছে বলে শিডিউল দেয়নি সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা। আগে জানলে অবশ্যই শিডিউল ক্রয় করতাম বলে জানান তিনি।
গতকাল বিকালে খোঁজ নিলে নাম না প্রকাশের শর্তে কয়েকজন কাঠ ব্যবসায়ী জানান, বন বিভাগ প্রতি বছর নিলাম ডাকে। কিন্তু তা অনেকটা ধামাচাপা দিয়েই করা হয়। আমরা কিছু বলতে গেলে এলাকার প্রভাবশালী চক্রের চাপ পোহাতে হয়। তাই কিছু করারও সাহস পাই না।
গতকাল দুপুরে জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখা ও পুলিশ সুপার কার্যালয়ের প্রশাসনিক শাখায় যোগাযোগ করা হলে বন বিভাগের বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি পাওয়া যায়। তবে দুই কার্যালয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, নিলাম-সংক্রান্ত শিডিউল বিক্রি ও দাখিলের বিষয় নিয়ে বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা কোনো যোগাযোগ করেননি।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিজ্ঞপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পাল্পউড প্লান্টেশন বিভাগ বান্দরবানের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, শিডিউল বিক্রিতে নির্দেশনার ব্যতিক্রম হলে তা খতিয়ে দেখা হবে।









