কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে রাজধানীর বিপণিবিতানগুলোতেও। গতকাল সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও প্রায় সব বিপণিবিতানই ছিল বন্ধ। ক্রেতা-বিক্রেতারা বলছেন, বিভিন্ন পয়েন্টে কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের মধ্যে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ছুটির দিনগুলোয় রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড হয়ে নিউমার্কেট পর্যন্ত থাকে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। কিন্তু গতকাল দেখা যায় উল্টো চিত্র। দোকানপাট সব বন্ধ; যানবাহনের চলাচল নেই; আনাগোনা নেই ক্রেতারও। সড়কের মাঝে মাঝে কাঠের গুড়ি পড়ে আছে। কিছু দূরত্ব পরপর ফেলে রাখা হয়েছে পুলিশের ব্যারিকেড। তবে এক পাশ দিয়ে রিকশা চলার জায়গা রাখা হয়েছে। কিছু পথচারীর আনাগোনা থাকলেও পুলিশ কিংবা বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতি চোখে পড়েনি।
সরজমিনে দেখা যায়, এলিফ্যান্ট রোড থেকে শুরু করে নিউমার্কেট পর্যন্ত যতগুলো বিপণিবিতান রয়েছে, সবই বন্ধ। ঢাকা নিউমার্কেট, সুপার মার্কেট, গাউছিয়া মার্কেট, নূর জাহান সুপার মার্কেট, চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট, নূর ম্যানসন শপিং সেন্টার, নেহার ভবন শপিং সেন্টার, মিরপুর রোডের প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টার, জাহান ম্যানসন শপিং সেন্টার, গ্লোব শপিং সেন্টারসহ কোনো দোকানই খোলেনি। রাজধানীর সবচেয়ে বড় বিপণিবিতান বসুন্ধরা শপিং সেন্টার ও যমুনা ফিউচার পার্ক খোলা থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে।
গাউছিয়া মার্কেটের সামনে ভ্যানে করে আখের রস বিক্রি করেন শামীম। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চার বছর ধরে এখানে ব্যবসা করি। তবে আজকের মতো এমন জনশূন্য আর দেখিনি। হামলা ও সংঘর্ষের কারণে পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে। অনেকের ভয়, বিকাল হলেই গোলাগুলি শুরু হবে। কারণ আগের দিনও বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত গোলাগুলি হয়েছে।’
চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘নিউ সুপার মার্কেট ও চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটে তিন হাজার দোকানে প্রায় ১৫ হাজার কর্মী রয়েছেন। তাদের আবার একেকজনের একটি করে পরিবার। আমার নিজের দোকানেও পাঁচজন কর্মচারী। কিন্তু দুদিন ধরে মার্কেট বন্ধ রয়েছে।’
গতকাল বেলা ৩টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা শপিং সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, প্রবেশপথ প্রায় জনশূন্য। যে দু-চারজন যাতায়াত করছে, অধিকাংশই শপিং সেন্টারের বিভিন্ন দোকানের কর্মী। ভেতরে গিয়েও দেখা গেল একই চিত্র। দোকান খোলা থাকলেও ক্রেতা নেই।
গতকাল রাজধানীর মহাখালী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কিছু টং দোকান ছাড়া সব বিপণিবিতান বন্ধ। গুলশান-১, গুলশান-২, বনানী, বাড্ডা, রামপুরা ও মালিবাগ এলাকায়ও প্রায় সব বিপণিবিতান বন্ধ রয়েছে।










