মালয়েশিয়ায় বাজারে বাংলাদেশী রফতানিকরকরা সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পরিবেশ পাচ্ছেন না। বাংলাদেশের প্রতিযোগী রফতানিকারক দেশগুলো দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক নানা সুযোগ-সুবিধা পেলেও দেশীয় রফতানিকারকরা তা পাচ্ছেন না। এর জন্য মালয়েশিয়ান সরকারকে বাণিজ্য ঘাটতি পূরণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। দুই দেশের কুটনৈতিক সম্পর্ক আরো মজবুত করতে রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক: সমৃদ্ধির পথে শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে বিআইআইএসএস।

স্বাগত বক্তব্যে বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল ইফতেখার আনিস বলেন, আসিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের বড় বিনিয়োগ সহযোগী মালয়েশিয়া। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের পর মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ট্রেডিং পার্টনার হয়ে উঠেছে। কভিডের মধ্যে মালয়েশিয়া-বাংলাদেশের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়, যা এর আগের বছর ২০১৯ সালে ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার ছিল। ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় ৩৮৪ মিলিয়ন ডলার রফতানি হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার বাণিজ্য সম্পর্ক সন্তোষজনক হলেও বাণিজ্য ঘাটতি সন্তোষজনক নয়। মালয়েশিয়ান মার্কেটে স্বল্প রফতানির কারণে এ বাণিজ্য ঘাটতি ক্রমাগত বাড়ছে এবং উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। এর বিশেষ কিছু কারণ রয়েছে। এর মধ্যে শুল্ক একটি বড় বাধা হয়ে উঠেছে। ২০১০ সালে ১৯ দেশীয় রফতানি পণ্যকে পারস্পরিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে শুল্ক মুক্ত সুবিধা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১১ সালে এর পরিমাণ বাড়িয়ে ৩০০ বাংলাদেশী পণ্যকে এ সুবিধা দেয়। এসব পণ্যের মধ্যে অ্যাপারেল পণ্য, জুতা, হ্যান্ডব্যাগসহ সমধর্মীয় পণ্য রয়েছে। এসব পণ্য মূলত বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সহযোগিতা করেনি।

ইফতেখার বলেন, অসামঞ্জস্যপূর্ণ মার্কেট প্রতিযোগিতাও বাণিজ্য ঘাটতি বাড়িয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিযোগী অধিকাংশ দেশই অগ্রাধিকারমূলক দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে। এর মধ্যে আসিয়ান অন্তর্ভুক্ত দেশসমূহ, চায়না ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট, মালয়েশিয়া-ইন্ডিয়া কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক কো-অপারেশন এগ্রিমেন্ট অন্যতম। এছাড়াও আসিয়ানের পাঁচটি দেশের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে। এসব চুক্তি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী পণ্যের প্রতিযোগিতার সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে। এসব নন ট্যারিফ বাধা, লজিস্টিক্যাল ইনএফিসিয়েন্সি, সরবরাহ প্রক্রিয়ার দুর্বলতা, দুর্বল উৎপাদন পরিকাঠামো বাণিজ্য ঘাটতি তৈরীতে ভূমিকা রেখেছে।

বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত উল্লেখ করে সেমিনারে মালয়েশিয়ার হাই কমিশনার হাজনাহ মো. হাশিম বলেন, যারা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে চায় আমরা তাদের স্বাগত জানাই। প্রযুক্তিতেও এখানে পরিবর্তন আসছে। শ্রম ও নিবিড় মূলধন আমাদের উৎপাদনশীলতায়ও পরিবর্তন আসছে। আগামীতেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় অব্যাহত থাকবে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আলোচনা চলছে। মানব পাচার রোধে ভিসানীতি কঠোর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম. রিয়াজ হামিদ উল্লাহ জানান, দুই দেশের মধ্যে সম্ভাবনাময় খাতগুলো নিয়ে পরিপূর্ণ বিশ্লেষণ করে মুক্তবাণিজ্য নিয়ে কাজ করা যেতে পারে।