তিনি বলেন, ‘জাতীয় অগ্রগতি ও উন্নয়নের জন্য সরকারি ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা জাতির কাছে দায়বদ্ধ। ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়—এ বিশ্বাসে উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাই মিলেমিশে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে আমরাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গঠন করতে সক্ষম হবো।’
গতকাল বেলা ৩টা ৪০ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এ সময় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটেছে।’ তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও জুলাই শহীদদের স্মরণে নেয়া অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরেন। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন।
বর্তমান সরকারের নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সরকার ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে। এটা নারী ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে কাজ হচ্ছে। সরকার নানা কাজ বাস্তবায়ন করছে।’
রাষ্ট্রপতি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তিনি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়েও কথা বলেন। মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বিষয়ে তথ্য জানান। কৃষি, অর্থনীতির ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করেন রাষ্ট্রপতি।
আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি জনআস্থা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরে এসেছে।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যাতে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসে বলীয়ান থাকতে পারে, বর্তমান সরকার আগামী দিনের নির্বাচনী কার্যক্রমে সেটি সমুন্নত রাখবে। নির্বাচন কমিশনের মতো দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে আইনানুযায়ী স্বাধীনভাবে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, বর্তমান সরকার সেটি নিশ্চিত করবে।’
রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, ‘বর্তমানে দেশে ভোটার সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ। সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ‘‘পোস্টাল ভোট বিডি’’ অ্যাপের মাধ্যমে ১৫ লাখের বেশি প্রবাসী নিবন্ধিত হয়েছেন। এটি নির্বাচন কমিশনের একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।’
তিনি বলেন, ‘জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। রাষ্ট্র পরিচালনার সব কার্যক্রমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও চর্চার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সরকার একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে চলছে। এক্ষেত্রে নবগঠিত সরকারের সামনে দারিদ্র্য বিমোচন, দুর্নীতি দমন ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই বিরাট চ্যালেঞ্জ হলেও রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এ বাধা অতিক্রম অসম্ভব নয়।’










