বান্দরবানের লামা পৌর শহর ঘেঁষা কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হেব্রন মিশন ভিটায় এক ত্রিপুরা কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। গতকাল শুক্রবার রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এসময় মিশন মাঠে লামা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিলো। বিষয়টি জানতে পেরে অনুষ্ঠানের দর্শকেরা ধর্ষককে ধরে দায়িত্বরত লামা থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করা হয়।
রাতেই কিশোরীকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে লামা থানা পুলিশ। অভিযুক্ত শিমু বড়ুয়া প্রকাশ আকরাম (৩০) লামা পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়ার বাদল বড়ুয়া প্রকাশ আইয়ুব খানের ছেলে।
আজ শনিবার সকালে হাসপাতালে কিশোরীর সঙ্গে আসা হেব্রন মিশন হোস্টেলের হোস্টেল সুপার মিনতি ত্রিপুরা ভুক্তভোগী বরাত দিয়ে জানায়, শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগী মিশন মাঠে অনুষ্ঠান দেখছিলো। রাত ৮টার দিকে পিপাসা পেলে পানি পান করার জন্য বড় ভাই আর্মান ত্রিপুরাকে সঙ্গে নিয়ে সে মাঠের কিনারে থাকা টিউবওয়েলে যায়। ওই স্থানটি অন্ধকার ছিলো। এসময় হঠাৎ এসে শিমু বড়ুয়া তার বড় ভাইকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। আঘাতে সে লুটিয়ে পড়ে অজ্ঞান হলে ১৪ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ করে শিমু বড়ুয়া। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরে পেয়ে আর্মান দৌড়ে গিয়ে অনুষ্ঠানের দর্শকদের কয়েকজনকে বিষয়টি জানায়। সঙ্গে সঙ্গে মানুষেরা গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ধর্ষক শিমু বড়ুয়াকে ধরে ফেলে।
পরে অনুষ্ঠানে দায়িত্বরত লামা থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হলে ধর্ষককে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর ভুক্তভোগী কিশোরীকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে আনে। এসময় ভুক্তভোগী কিশোরী মিনতি ত্রিপুরার পাশে বসা এবং লামা থানার এক নারী পুলিশসহ পুলিশের দুই সদস্য দায়িত্বরত ছিলো।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আপ্পেলা রাজু নাহা বণিক বার্তাকে বলেন, ধর্ষককে লামা থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তবে ঘটনার স্থান কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত হওয়ায় এ সংক্রান্ত মামলা হয়েছে চকরিয়া থানায়।
এ বিষয়ে লামা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও লামা পৌরসভার মেয়র মো. জহিরুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, শুক্রবারের বনভোজানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং। বিকাল ৩টায় মন্ত্রী চলে যাবার পর সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিলো। মন্ত্রীকে প্রটোকল ও অনুষ্ঠানের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলো লামা থানার পুলিশ। লামা পৌর শহরের অংশ হিসেবে দেখা গেলেও হেব্রন মিশন হোস্টেলটি চকরিয়া উপজেলার বমু বিলছড়ি ইউনিয়নে পড়েছে। ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত শিমু বড়ুয়া দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই বলে জানান তিনি।
এদিকে আইনগত বিষয় বিবেচনা করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ভুক্তভোগী কিশোরীকে কক্সবাজার ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে বলে জানান বান্দরবান সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) প্রত্যুষ পল ত্রিপুরা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চকরিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বণিক বার্তাকে বলেন, আসামি শিমু বড়ুয়াকে চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। ডাক্তারী পরীক্ষা ও বয়স নির্ধারণের জন্য ভুক্তভোগী কিশোরীকে কক্সবাজার জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে আইনানুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।









