দিনাজপুরের বিরামপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নাজমুস সাদাতকে গ্রেফতার করেছে ঢাকার গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল।
মঙ্গলবার ভোরে বিরামপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী কাঠলা এলাকা থেকে বিরামপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তিনি গেল কয়েকদিন ধরেই সেখানে অবস্থান করছিলেন ও ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
বুয়েট ছাত্রলীগ কর্মী সাদাত প্রতিষ্ঠানটির যন্ত্র কৌশল বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি জয়পুরহাট। গ্রেফতারের পরে তাকে ঢাকা গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বিরামপুর থানার ওসি মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আবরার হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নাজমুস সাদাত বিরামপুরের কাঠলা সীমান্ত পথ ব্যবহার করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন- এমন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল বিরামপুর থানায় আসে। এর পরে বিরামপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় উপজেলার কাঠলা গ্রামে তার আত্মীয় জনৈক রফিকুলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সাদাতকে আশ্রয়দাতা রফিকুল ইসলাম কাটলায় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা নামের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত।
গেল ৭ অক্টোবর রাতে ফেসবুক স্ট্যাটাসের জেরে বুয়েটের ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে (২১) পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের কতিপয় নেতাকর্মী। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আবরারের বাবা ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি পরে ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় ছাত্রলীগ ১২ জনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে। মামলায় এখন পর্যন্ত এজাহারভুক্ত ১৬ জনসহ ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এ মামলায় এখন পর্যন্ত তিনজন পলাতক। তারা হলেন- বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ১৬তম ব্যাচের মাহমুদুল জিসান, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের এহতেশামুল রাব্বী তানিম এবং যন্ত্র কৌশল বিভাগের ১৭তম ব্যাচের মোর্শেদ।










