‘নিজেদের রাজাকার’ বলে স্লোগান দেয়া কোটা আন্দোলনকারীরা একাত্তরের
গণহত্যা, মা-বোনের ওপর পাশবিক নির্যাতন এবং এদের সহায়তাকারী রাজাকারদের ভুমিকা সম্পর্কে
জানে কিনা-সে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তাদের স্লোগানে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, রাস্তায় রাস্তায় মরদেহ পড়ে থাকতে এরা দেখেনি। তাই নিজেদের রাজাকার বলতে তাদের লজ্জা হয় না।
সোমবার (১৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে
বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) স্বাক্ষর এবং এপিএ ও শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।
লাখো শহীদ রক্ত দিয়ে গেছে। লাখো মা-বোন নির্যাতিত হয়েছেন। তাদের এ অবদান ভুললে চলবে
না। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও রাজাকার বাহিনী যেভাবে এদেশের অত্যাচার করেছে, আমার
খুব দুঃখ লাগে যখন রোকেয়া হলের ছাত্রীরাও বলে তারা রাজাকার।
তারা কি জানে একাত্তর সালের পচিশে মার্চ কি ঘটেছিল সেখানে? তিনশ মেয়েকে হত্যা করেছিল, ৪০ জন মেয়েকে ধর্ষণ করেছিল। পাকিস্তানি ক্যাম্পে ধরে নিয়ে গিয়েছিল। অনেক মেয়ে শাড়ি বা ওড়না দিয়ে ফাঁসি দিয়েছিল বলে তাদের সেগুলো পড়তে দেয়া হতো না। ওই এক কাপড় পদে বসিয়ে রাখত। দিনের পর দিন তাদের ওপর পাশবিক অত্যাচার হতো।
এমন একজন মেয়েকে উদ্ধারের ঘটনার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের মিত্র শক্তি ভারতীয় একজন শিখ সৈন্য তার মাথার পাগড়ি খুলে ওই উদ্ধারকৃত মেয়েকে তার গায়ে পেচিয়ে নিয়ে আসে। এটি একটি ঘটনা মাত্র। এমন বহু ঘটনা আছে।
পিরোজপুরের যে মেয়েটাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল। তাকে দিয়ে রান্না করাত এবং পাশবিক অত্যাচার করত। কিন্তু এক ফাঁকে সে ওদের খবর নিয়ে নদী পার হয়ে চিতমারীতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের খবর দিয়ে আসত। ধরা পরার পর তাকে দুটো গাড়িতে বেঁধে তার পা ছিড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব অত্যাচারে রাস্তায় রাস্তায় মরদেহ পড়ে থাকতে এরা দেখেনি। তাই নিজেদের রাজাকার বলতে তাদের লজ্জা হয় না। যে বাহিনীগুলো তারা তৈরি করেছিল। সে বাহিনী দিয়ে তারা লুটপাট করত, মানুষের ওপর অত্যাচার করত। তাদের বিরুদ্ধে আমরাই ব্যবস্থা নিয়েছি। বিচার করে অনেককে ফাঁসিও দিয়েছি। তাদের দ্বারা যারা নির্যাতিত তারা বিচার পেয়েছে।
এটা দুর্ভাগ্যজনক যখন শুনি মেয়েরাও স্লোগান দেয়! তখন মনে হয় আমরা কোন দেশে আছি। আর এরা কোন চেতনায় বিশ্বাস করে। কি শিক্ষা এদের দিল? কি তারা শিখল? এটাই আমাদের প্রশ্ন।
মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান ভুলে গেলে চলবে না জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন,"মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গর্বের। জাতির পিতার একটি ডাকে এ দেশের মানুষ ঘরবাড়ি, পরিবার-পরিজন সবকিছু ছেড়ে দিয়ে জীবনের মায়া ত্যাগ করে যুদ্ধ করতে চলে গেছে। বিজয় এনে দিয়েছে। যারা রাজাকার বাহিনীতে ছিল তারা এ দেশের মানুষের ওপর অত্যাচার করেছে। সেটা তো আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। সুতরাং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তাহলেই এ দেশ এগিয়ে যাবে।
পঁচাত্তরের পরবর্তী সময়ে যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা এ দেশকে কী দিয়েছে। কিছুই দিতে পারেনি। কিন্তু আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করি, যখনই ক্ষমতায় এসেছি কাজ করেছি। গত ১৫ বছরে বদলে যাওয়া বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল।










