আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, দেশে আইনের ঘাটতি নেই, তবে এর প্রয়োগ ও সামাজিক মানসিকতার জায়গায় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ মহিলা অধিকার পরিষদ আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে আজ দুপুরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা খুবই কম। অনেকে আইনের প্রয়োগ এবং ব্যবহারের বিষয়ে জানেন না।

মন্ত্রী বলেন, আমরা যত বেশি সভ্য হচ্ছি বলে মনে করছি, ততই নীতি-নৈতিকতা থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। বর্তমানে অফলাইনের তুলনায় অনলাইনে জুয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।

এ সময় নারী ও শিশুর অধিকার নিশ্চিত করাকে রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সংলাপে অংশ নিয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী নারী ও শিশু নির্যাতন ও সহিংসতা প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি তাদের উৎসাহিত করতে পুরস্কারভিত্তিক উদ্যোগ নেয়ার সুপারিশ করেন।

এ সময় সাবেক বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ বলেন, ভাইরাল হওয়া ঘটনাগুলোর বাইরে সব ধরনের নারী ও শিশু নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে বলা হয়, সহিংসতা প্রতিরোধে সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সনদ ও কর্মপরিকল্পনায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে অফলাইন ও অনলাইন—উভয় ক্ষেত্রেই লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বাড়ছে। বিশেষ করে মেয়ে শিশু ও কিশোরীদের প্রতি যৌন সহিংসতার প্রবণতা উদ্বেগজনক।

প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সংরক্ষিত ১৫টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৫৬৯টি। এর মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়ে শিশু ও কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৪১৬ জন। দলবদ্ধ ধর্ষণের ১৭৯টি ঘটনার মধ্যে ১০৪টির শিকার হয়েছে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরা। একই সময়ে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩১ জনকে, যার মধ্যে ১৮ জন ছিল মেয়ে শিশু ও কিশোরী।