বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল থেকে কয়েক দফায় বিদ্যুৎ আসা যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন হাসপাতালের সহস্রাধিক রোগী। হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা সেবা অনেকাংশে বন্ধ। অপারেশন কার্যক্রমও ব্যাহত। দুপুর পর্যন্ত পরিস্থিত স্বাভাবিক না হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান এ চিকিৎসা কেন্দ্রে সেবা কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখতে জেনারেটর চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

শেবাচিম হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা সেবা নিতে শনিবার বেলা ১২টায় স্বজন নিয়ে যান মো. মহিউদ্দিন নামে একজন কলেজ শিক্ষক। তিনি বলেন, সকাল থেকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বহির্বিভাগে চিকিৎসকরা রোগী দেখা বন্ধ রেখেছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষাও অনেকাংশে বন্ধ। এর ফলে শত শত রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

একই চিত্র দেখা গেছে হাসপাতালের আন্তঃবিভাগের অধিকাংশ ওয়ার্ডে। গাইনি ওয়ার্ডের একজন রোগীর স্বজন বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় পানি সরবরাহও বন্ধ। প্যাথলজি বিভাগে খোজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানে পরীক্ষা-নিরিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রমেও ব্যাঘাত ঘটে।

শেবাচিম হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারী বলেন, সকালে অফিসে আসার পর থেকেই বিদ্যুৎ আসে আর যায়। ঘন্টার পর ঘন্টা বন্ধ থাকায় কাজকর্ম করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, হাসপাতালে এভাবে না জানিয়ে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয় না।

জানতে চাইলে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা: বাকির হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ কেবল যায় আর আসে। এতে রোগীর অপারেশনের কাজেও ব্যাঘাত ঘটছে। পরীক্ষা নিরিক্ষা করা যাচ্ছে না। হাসপাতালে প্রায়সই এমনটা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ কেন হাসপাতাল এলাকায় এমন বিভ্রাট করছে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে বরিশাল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র-১ নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন বলেন, পাখি পড়ে বিদ্যুতের তার ছিড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুক্ষণ বন্ধ ছিল। সকাল থেকে তো নয়। এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালকের সাথেও আমার কয়েকবার কথা হয়েছে। 

তিনি বলেন, রোগীরা বলতেই পারে। এটা আমাদের অভ্যাস, একটু বিদ্যুৎ গেলেই হাউকাউ করি। 

বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অপারেশনসহ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া প্রসঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন বলেন, পরিচালককে বলেন জেনারেটর চালিয়ে অপারেশন করতে।

এ ব্যপারে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন বরিশাল জেলা সাধারন সম্পাদক কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, শেবাচিম হাসপাতালের মত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট জনসেবা পরিপন্থি। এটি একধরনের ষড়যন্ত্র। বিদ্যুৎ না থাকেলে এক সেকেন্ডে রোগীর প্রাণ যেতে পারে। কেন এটা হল তা খতিয়ে দেখার জন্য তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।