দেশে আন্তর্জাতিক মানের সনদপ্রাপ্ত বা অ্যাক্রেডিটেড ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি গড়ে তুলতে পারলে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের দুর্ভোগ কমবে এবং দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এমএ মুহিত।

গতকাল বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) আয়োজিত এক নীতিনির্ধারণী সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী ড. এমএ মুহিত বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান। কিন্তু দেশের ল্যাবরেটরিগুলোর পরীক্ষার ওপর পর্যাপ্ত আস্থা না থাকায় বিদেশে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা একই পরীক্ষাগুলো আবারো করান। এতে রোগীদের চিকিৎসার পেছনে বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ ও সময় নষ্ট হয়। তাই দেশে যদি আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃত ল্যাবরেটরি বাড়ানো যায়, তবে রোগীরা দেশেই মূল পরীক্ষাগুলো করিয়ে নিতে পারবেন, যা তাদের খরচ অনেক কমিয়ে দেবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ল্যাবরেটরিগুলোর ওপর এখনই জোরজবরদস্তি বা আইনি কড়াকড়ি না চাপিয়ে আগে মালিক ও পরিচালনা পর্ষদকে সচেতন করতে হবে। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা যদি বুঝতে পারেন যে মান ধরে রাখলে মানুষের আস্থা বাড়বে এবং এতে তাদের ব্যবসাও লাভজনক হবে, তবে তারা নিজেরাই এ স্বীকৃতি নিতে উৎসাহী হবেন।’

দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নানামুখী চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর মান নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত তদারকি চালানো হচ্ছে। জনগণের আস্থা ফেরানোই এখন মূল লক্ষ্য। তবে শুধু হাসপাতাল বা চিকিৎসকের ওপর নির্ভর করে স্বাস্থ্য খাত এগোতে পারে না। খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ, সঠিক রোগ নির্ণয় এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার দিকে নজর না দিলে ক্যান্সার, কিডনি কিংবা লিভারের মতো প্রাণঘাতী রোগ কমানো সম্ভব নয়।’

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।