রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এস তাহের আহমেদ হত্যা মামলার দুই আসামির ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। গতকাল রাত ১০টা ১ মিনিটে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে আসামিদের ফাঁসি কার্যকর হয়। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ১৭ বছর পর দুই আসামির ফাঁসির রায় কার্যকর হলো।

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আবদুল জলিল গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, একই মঞ্চে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। প্রথমে ড. মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিনকে ফাঁসির মঞ্চে তোলা হয়। তার ফাঁসি কার্যকরের পর আরেক আসামি জাহাঙ্গীর আলমকেও ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

আসামিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় রাজশাহী জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ, কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) মো. কামাল হোসেন, রাজশাহী সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আবদুল জলিল, জেলার নিজাম উদ্দিন ফাঁসির মঞ্চের কাছে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান জল্লাদ ছিলেন আলমগীর হোসেন। তার নেতৃত্বে দুই আসামির ফাঁসি কার্যকরে যুক্ত ছিলেন আট জল্লাদ। মরদেহ পরিবহনের জন্য আগেই প্রস্তুত রাখা হয়েছিল দুটি কফিন। ফাঁসি কার্যকরের আগে দুই আসামিকে তওবা পড়ান কারা মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মুজাহিদুল ইসলাম। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পর আলাদা দুটি অ্যাম্বুলেন্সে কফিনবন্দি মরদেহ বাইরে বের করে আনা হয়।

এর আগে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে একই মঞ্চে দুই আসামির ফাঁসি কার্যকর করতে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করে কারা কর্তৃপক্ষ। বুধবার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে কয়েক দফায় চলে ফাঁসির চূড়ান্ত মহড়া।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ মাথায় নিয়ে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে বন্দি ছিলেন আসামি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও ড. এস তাহের আহমেদের বাড়ির কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর আলম। 

মঙ্গলবার ড. মিয়া মো. মহিউদ্দিন ও জাহাঙ্গীর আলমের পরিবার তাদের সঙ্গে দেখা করে যান। ফাঁসি কার্যকরের আগে জেল কোড অনুযায়ী এটিই ছিল পরিবারের সঙ্গে ফাঁসির আসামিদের শেষ দেখা।