দিনাজপুরের হিলিতে এবার আমন সংগ্রহ অভিযান শুরুর ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো এক টনের বেশি ধান সংগ্রহ করতে পারেনি খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খোলাবাজারে ধানের ধান বেশি থাকায় কৃষকরা সরকারকে চাল দিচ্ছেন না। এতে ধান সংগ্রহ অভিযান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন খাদ্য কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, ৬ ডিসেম্বর হিলি এলএসডি খাদ্যগুদাম চত্বরে হাকিমপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন উর রশীদ হারুন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-এ আলম কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের দিন একজন কৃষকের কাছ থেকে এক টন ধান ক্রয়ের মধ্য দিয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন হলেও এরপর থেকে আর ধান সংগ্রহ করতে পারেনি খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ।
হিলির জালালপুর গ্রামের কৃষক সুজন হোসেন ও শরিফুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে ধানে পোকার আক্রমণ দেখা দেয়ার কারণে উৎপাদন কম হয়েছে, তবে ধানের ভালো দাম পাওয়ায় সেই ঘাটতি কিছুটা কাটিয়ে ওঠা গেছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে ধানের উৎপাদন খরচ মিটিয়ে আমাদের কিছু লাভ হচ্ছে, তবে পোকার আক্রমণ না হলে ধানের উৎপাদন বেশি হতো, গত বছর তালিকায় নাম ওঠায় সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৪০ টাকা দরে গুদামে ধান সরবরাহ করেছি। কিন্তু সরকার এবারো ধানের দাম গতবারের মতো নির্ধারণ করেছে, কিন্তু সেই দামের চেয়ে খোলাবাজারেই বাড়তি দামে ধান কেনাবেচা হচ্ছে। তাই এবার সরকারি গুদামে ধান না দিয়ে আড়তদারদের কাছেই বিক্রি করে দিয়েছি। এছাড়া সরকারি খাদ্যগুদামে ধান দিতে গিয়ে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয় এবং এক সপ্তাহ অপেক্ষার পর ব্যাংক থেকে টাকা নিতে হয়। আর আড়তদারদের কাছে ধান বিক্রি অনেক সহজ, কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় না। আর এখন তো কৃষকদের কাছে ধানও নেই, ধান কাটা মাড়াইয়ের সঙ্গে সঙ্গে পাওনা মেটাতে গিয়ে কৃষকদের ধান বিক্রি করে দিতে হয়।
হিলির ছাতনি মোড়ের ধানের আড়তদার শাহ মোহাম্মদ বলেন, আমরা বর্তমানে স্বর্ণা জাতের ধান কিনছি ১ হাজার ১৭০ থেকে ১ হাজার ১৮০ টাকায়, আর গুটি স্বর্ণা জাতের ধান কিনছি ১ হাজার ১০০ টাকা মণ দরে। আর সরকার প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৪০ টাকা করে নির্ধারণ করেছে। কিন্তু বাড়তি চাহিদার কারণে আমরা সেই দামের চেয়ে বেশি দামে ধান কিনছি।
হিলি এলএসডি খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা জোসেফ হাসদা বলেন, চলতি রোপা আমন মৌসুমে হাকিমপুর উপজেলায় সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে ৩৮০ টন ধান ক্রয় করা হবে। সেই মোতাবেক ৬ ডিসেম্বর অভ্যন্তরীণ আমন ধান সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের দিন একজন কৃষকের কাছ থেকে এক টন ধান ক্রয় করা হয়। কিন্তু এর পর থেকে আর কোনো কৃষক ধান দিতে খাদ্যগুদামে আসেননি। তাই আর ধান সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। মূলত সরকারিভাবে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে খোলাবাজারে ধানের দাম বেশি হওয়ায় কৃষকরা খাদ্যগুদামে ধান দিতে আগ্রহী হচ্ছেন না।









