মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা সারাদেশে উদযাপিত হবে আগামীকাল শনিবার। তবে সৌদিআরবের সঙ্গে মিল রেখে দিনাজপুরের বিরামপুরে একদিন আগেই দুটি ইউনিয়নের ১৫ গ্রামের মানুষ মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।
আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় বিরামপুর উপজেলার খয়েরবাড়ি-মির্জাপুর গ্রামের জামে মসজিদে এবং ৭টা ২০ মিনিটে আয়ড়া বাজার জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। দুটি জামাতে ১৫টি গ্রামের প্রায় দুশ মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করেন।
একটিতে দেলোয়ার হোসেন কাজি, অন্যটিতে মাওলানা ইলিয়াস আলী ইমামতি করেন। এসব জামায়াতে পুরুষ মুসল্লি ১৩০ জন ও নারী মুসল্লি ২৫ জন উপস্থিত ছিলেন। নামাজ শেষে মসজিদের পাশে পশু কোরবানি দেন মুসল্লিরা। এর আগে সকাল থেকেই সময় হওয়ার আগে দূর দূরান্তের গ্রামগুলো থেকে কেউ ভ্যান, বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল যোগে একত্রিত হতে থাকেন। বিশৃঙ্খলা এড়াতে বিরামপুর থানা পুলিশের পক্ষ থেকেও করা হয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা।
ঈমাম মো. দোলোয়ার হোসেন কাজি বলেন, সৌদি আরবের সাথে আমাদের দেশের সময়ের পার্থক্য মাত্র তিন ঘন্টা। এই তিন ঘন্টার ব্যবধানে দিনের পরিবর্তন হয় না, তাই তাদের সাথে মিল রেখে এই নামাজ আদায় করা। ১৯৯৭ সাল থেকে এভাবে নামাজ আদায়ের পরিকল্পনা থাকলেও গত ২০১৩ সাল থেকে আমরা এখানে সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে নামাজ আদায় করে আসছি। তবে মুসল্লির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, যার কারণে গতবারের চেয়ে এবার মুসল্লির সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি আরো বলেন, হযরত মুহাম্মদ (স) জম্মগ্রহণ করেন ১২ রবিউল আওয়াল সোমবার কিন্তু যদি দিন হিসেবে ধরা হয় তাহলে আমাদের দেশে সেই দিন হয় মঙ্গলবার। আবার রমজানে ২৭ তারিখে আমরা ‘লাইলাতুল কদর’ রাতে ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহকে খুঁজি। কিন্তু দিন হিসেবে আমরা একদিন পর সেই রাতকে খুঁজতেছি। এমন বিভিন্ন চিন্তা ও হাদিসি ব্যাখ্যার কারণে সৌদি আরবের সঙ্গে মিলরেখে ঈদ উযদাপন করছি’।
বিরামপুর থানার ওসি মো.মনিরুজ্জামান মনির বলেন, সৌদিআরবের সাথে মিল রেখে বিরামপুরের দুটি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে আগাম ঈদের নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। সেই আগাম ঈদের জামাতে যেন কোন ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি না হয় সেটি এড়াতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।









