গতকাল ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশনের শুরুর দিনে তিনি এ আহ্বান জানান।

ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা অতীতের সংসদগুলোতে দেখেছি, দেশের মানুষের কল্যাণ নিয়ে আলোচনা না করে অনেক সময় মানুষের চরিত্র হননের জন্য এখানে বিপুল সময় ব্যয় করা হয়েছে। আমি আপনাকে বিনীতভাবে অনুরোধ করব, এ সংসদ যেন কখনো কারো চরিত্র হননের কেন্দ্রে পরিণত না হয়। আপনার কাছ থেকে কেউ যেন এ ব্যাপারে সামান্যতম সুযোগও না পায়। আমরা চাই এ সংসদ শুধু জনকল্যাণে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হোক।’

স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনার প্রতি আমাদের গভীর আস্থা রয়েছে। আপনি একজন লড়াকু মুক্তিযোদ্ধা। ইনশাআল্লাহ আপনি পারবেন এ সংসদকে সফলভাবে নেতৃত্ব দিতে। আমরা প্রতিটি বিষয়ে আপনাকে সমর্থন দেব, সহযোগিতা করব এবং আপনার জন্য দোয়া করব।’

তিনি আরো বলেন, ‘আপনি একটি দল থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদে এলেও এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, আপনি জাতীয়তাবাদী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তাই আমরা মনে করি, আপনার কাছে সরকারি দল ও বিরোধী দল আলাদা কিছু হবে না। আমরা আপনার কাছ থেকে সুবিচার পাব। জাতির কল্যাণে যে কথাগুলো বলতে চাইব, সেগুলো বলার সুযোগ আপনার কাছ থেকে পাব। আপনার নেতৃত্বে এ সংসদ একটি গতিশীল সংসদে পরিণত হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আমরা চাই, অতীতে যে মন্দ নজির বিভিন্ন সময়ে সৃষ্টি হয়েছে, তা যেন নতুন করে আর না ঘটে।’

তিনি ন্যায়বিচার আশা করে বলেন, ‘আমরা আপনার কাছ থেকে শুধু ইনসাফ আশা করি। আপনি যদি এ সংসদের ওপর ইনসাফ করেন, তাহলে ১৮ কোটি মানুষের ওপরই ইনসাফ করা হবে। কারণ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি অঙ্গের মধ্যে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এ অঙ্গ যখন সুস্থ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে, তখন বাকি দুটি অঙ্গও সেভাবেই কাজ করবে।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাইয়ের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে এ সংসদ। জুলাইয়ের একটি প্রত্যাশা ছিল, একটি মাত্র স্লোগান ছিল—‘‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’’। আমি আবারো তা উচ্চারণ করছি। আপনার মাধ্যমে সমাজের সকল অসংগতি, অন্যায়, অপরাধ ও দুর্বৃত্তপনার—তা রাজনৈতিক হোক, অর্থনৈতিক হোক বা সাংস্কৃতিক—সমাপ্তি ঘটবে, এ প্রত্যাশা করি।’