গান ও স্লোগানে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের
সমাবেশস্থলে রাত পার করে দিয়েছেন বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে আসা নেতাকর্মীরা। তাদের
কণ্ঠে শোনা গিয়েছে ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’, ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’সহ উদ্দীপনামূলক গান।
আজ শনিবার সমাবেশের দিন সকালে সরেজমিনে দেখা
গিয়েছে, হাজার হাজার নেতাকর্মী সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অবস্থান নিয়েছেন।
চলমান পরিবহন ধর্মঘট উপেক্ষা করে সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ থেকে
এসেছেন তারা।
গতকালই নেতাকর্মীতে ভরে গেছে পুরো মাঠ। দিনের
বেলা পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে আসলেও রাতে পৌঁছান সিলেটের দূরবর্তী উপজেলার নেতাকর্মীরা।
কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির জন্য বরাদ্দ করা
ক্যাম্পে গিয়ে দেখা যায়, ক্যাম্পে সাউন্ড বক্স লাগিয়ে গান করছেন শিল্পীরা। গানের সঙ্গে
সমবেত নেতাকর্মীরা নৃত্য করছেন।
এই ক্যাম্পে থাকা জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি
আশিক চৌধুরী গতকাল বলেছিলেন, গানের মাধ্যমে আমরা নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রাখার চেষ্টা
করছি। পুরো রাত আমরা এখানেই থাকব।
ছাত্রদলের ক্যাম্পে গিয়ে দেখা যায় স্লোগানে মুখর ক্যাম্প। জেলাওয়ারি স্থাপিত ক্যাম্পগুলোও ছিল মুখর।
অপরদিকে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় গণসমাবেশে
যোগ দিতে উড়োজাহাজযোগে সিলেট পৌঁছান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে
হজরত শাহজালাল (র.) এর মাজার জিয়ারাত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাকে
ধ্বংস করেছে। তাই নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনই এদেশের
মানুষের এখন তুমুল দাবি।
আরো দাবি করেন, দেশে গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে।
তা দেখে সরকারের কর্তাব্যক্তিদের মাথা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সিলেটের গণসমাবেশ হবে গণজাগরণের
অনন্য নজির।
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল
মুক্তাদির বলেন, সিলেটে আজ গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। দুপুরের মধ্যে সমাবেশের নগরীতে
রূপ নেবে।
এ দিকে থেকে সিলেট বিভাগে চার জেলায় পরিবহন
ধর্মঘট চলছে। ধর্মঘটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বিএনপির পক্ষ থেকে
দাবি করা হচ্ছে, সমাবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতেই পরিবহন মালিক শ্রমিকরা সরকারের
পক্ষ নিয়ে ধর্মঘট ডেকেছে।
সিলেট জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল
কালাম বলেন, ধর্মঘট কর্মসূচি তাদের পূর্বঘোষিত। কারো চাপে পড়ে তারা কর্মসূচি ঘোষণা
করেননি।
এ দিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তৎপর আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার নিশারুল আরিফ বলেন, পুলিশ জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে
কাজ করছে। ১৯টি জায়গায় চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এ ছাড়া চারজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে
চারটি মোবাইল টিম মাঠে রয়েছে। তিনি বলেন, সমাবেশ ঘিরে কোন বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে
না।










