চীনকে ভালো বন্ধু হিসেবে দেখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘দুই দেশের সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করবে।’ চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়াকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান এ কথা বলেন।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস চারদিনের প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে চীনে যান। তিনি সিনহুয়াকে বলেন, ‘আমাদের সম্পর্ক বছরের পর বছর ধরে খুবই শক্তিশালী। আমাদের ব্যবসা খুবই শক্তিশালী এবং চীনের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা থেকে আমরা উপকৃত হচ্ছি।’
বার্তা সংস্থা বাসস লিখেছে, ‘চীন যা অর্জন করেছে তাতে বাংলাদেশের সবাই অনুপ্রাণিত’ মন্তব্য করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ হলো একটি নতুন বাংলাদেশ পুনর্গঠন করা এবং জনগণ আশা করে যে তারা নিজ দেশের উন্নয়নে চীনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে পারবে।’
চীনের দারিদ্র্য হ্রাসের অর্জন বিষয়ে ড. ইউনূস বলেন, ‘বেশির ভাগ দেশ সাধারণ মানুষের চাহিদা পূরণের পরিবর্তে জিডিপি প্রবৃদ্ধির ওপর জোর দেয়। কিন্তু চীন নিম্ন আয়ের গোষ্ঠীর ওপর জোর দেয়। এ কারণেই চীনারা দ্রুত দারিদ্র্য হ্রাসে খুব সফল।’
বাসস জানায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ‘উচ্চপর্যায়ের উন্নয়ন’ হয়েছে। চীন টানা ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশের ‘বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার’। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় এক হাজার চীনা প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, যা সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।
সিনহুয়াকে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘দুই দেশ ব্যাপক সহযোগিতার সম্পর্ক স্থাপন করেছে, যা অনেক ইতিবাচক ফলাফল এনেছে। চীন থেকে বাংলাদেশের আমদানি বাড়ছে। আমাদের শিল্পে ব্যবহারের বেশির ভাগ পণ্য আসে চীন থেকে।’
ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে ড. ইউনূস দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক পরিপূরকতা এবং তাদের বিশাল সহযোগিতার সম্ভাবনার ওপর জোর দেন। তিনি আশা করেন, আরো চীনা বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে আসবেন এবং স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে একত্রে একটি বৃহত্তর বাজার উন্মুক্ত করবেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশী রোগী, চিকিৎসক ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর প্রথম দলটি চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ে চিকিৎসা পরীক্ষা ও চিকিৎসা পর্যটন বাজারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে গিয়েছিল। ড. ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে শিখতে এবং জনগণের উপকারে একটি উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে।’
বাসস জানায়, এ বছর চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০তম বার্ষিকী এবং এটিকে চীন ও বাংলাদেশ জনগণের সঙ্গে জনগণের বিনিময় বছর হিসেবেও মনোনীত করা হয়েছে।
বাংলাদেশে সন্ন্যাসী জুয়ানজ্যাংয়ের পদচিহ্ন রেখে যাওয়া এবং চীনে বৌদ্ধ ধর্ম প্রসারে পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্করের অবদান, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ আদান-প্রদানের দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দ্রুত ও টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি দৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করেছে বলে মনে করেন তিনি। ড. ইউনূস বলেন, ‘চীনের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ উপকৃত হচ্ছে। আমরা কেবল দ্রুত উন্নয়নশীল অর্থনীতিই তৈরি করতে পারি না, বরং একটি নতুন ধরনের অর্থনীতি তৈরি করতে পারি, যেখানে সবার অংশগ্রহণ থাকবে। আমরা এটিকে পরবর্তী পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারি, যেখানে আমাদের সহযোগিতা কেবল অর্থনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি হবে সাংস্কৃতিক।’
বাংলাদেশ ও চীনের বিগত ৫০ বছরের সম্পর্ক চমৎকার ছিল মন্তব্য করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আগামী ৫০ বছর আরো সুদৃঢ় হবে। বৃহত্তর ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার জন্য উন্মুখ আমরা। এটাই দেখার অপেক্ষায় আছি।’










