পোশাক শ্রমিকদের জন্য রেশন কার্ড ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করাসহ আট দফা প্রস্তাব জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন।

আজ শনিবার (২৩ নভেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার: চলমান শ্রম অসন্তোষ, শ্রমিক অধিকার ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, ৭১ টিভির সিনিয়র বিজনেস এডিটর কাজী আজিজুর ইসলাম, সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, বিলসের নির্বাহী পরিচালক সুলতান উদ্দিন আহমেদ, শ্রমিক নেতা আবুল হোসেন, সালাউদ্দিন স্বপন, জলি তালুকদার, লুৎফুন নাহার লতা, শবনম হাফিজ, এম এম ফয়েজ আহমেদ, কে এম মিন্টু, রাজু আহমেদ, মাহমুদ হোসেন ডিআরডিইউর নেতা ও বাংলাদেশ মোটরযান মেকানিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক-জসিম উদ্দিনসহ অন্যান্য শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বক্তারা রেশন কার্ডের মাধ্যমে গার্মেন্টস শ্রমিকদের চাল-ডাল-তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী স্বল্প মূল্যে প্রদানসহ মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শ্রম সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিগুলো অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে, কিন্তু উদ্দেশ্য প্রণোদিত আন্দোলনকারীদের চিহ্নিত করা হবে।

তিনি বলেন, কর্মসংস্থান বিষয়ে একটি নতুন অধিদপ্তর গঠনের বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে। এটি গঠন হলে সারা দেশের কর্মসংস্থান নিয়ে কাজ করা হবে।

অনুষ্ঠানের লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন মাহবুবুর রহমান ইসমাইল। তিনি বলেন, পোশাক শিল্প গত ৪ দশক অতিক্রম করে এখন বিশ্ব প্রতিযোগিতায় শীর্ষস্থানে অবস্থান করার পর্যায়ে। শিল্পের এ অগ্রগতির সঙ্গে আমরা যদি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত পর্যায়ে তুলে আনতে পারি, তাহলে কারো আপত্তি থাকার কথা নয়। আর এতে করে শিল্পেরও অস্থিরতা যেমন কমে আসবে, তেমনি টেকসই উন্নত শিল্প ব্যবস্থাপনাও গড়ে উঠবে।

টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের প্রস্তাবনাগুলো হলো - রেশন কার্ডের মাধ্যমে গার্মেন্টস শ্রমিকদের চাল-ডাল-তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী স্বল্পমূল্যে প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে হবে।

আইএলও কনভেনশনের আলোকে ইপিজেডসহ সব গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিকদের অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং একই আইন প্রচলন করতে হবে। ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশনে সব আইনি বাধা দূর করতে হবে।

সংবিধান সংস্কারে সকল শ্রমিকের খাদ্য নিরাপত্তা রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত করার ধারা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

শ্রমিকের স্বাস্থ্য ও জীবিকা নিরাপত্তায় মালিক, সরকার, বায়ার উদ্যোগী হয়ে ‘জরুরি স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা’ তহবিল গঠন করতে হবে।

অনানুষ্ঠানিক বা অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত শ্রমজীবীসহ কর্মহীন ও কর্মঅক্ষম শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করতে ‘সর্বজনীন কল্যাণ তহবিল’ গঠন করতে হবে;

গার্মেন্টস শিল্প অঞ্চল ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া এবং চট্টগ্রাম শিল্প অঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নির্মাণ করতে হবে।

তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ডে ও রানা প্লাজা ভবন ধসে নিহত-আহত শ্রমিকদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

তাজরীন গার্মেন্টসের ১২৫ জন শ্রমিক হত্যার অভিযোগে কৃষক লীগ ঢাকা উত্তরের সহ-সভাপতি তাজরীন গার্মেন্টসের মালিক খুনি দেলোয়ারকে জামিন বাতিল করে অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচার করতে হবে। রানা প্লাজা ভবন ধসে ১ হাজার ১৩৮ জন শ্রমিক হত্যাকারী ভবন মালিক সোহেল রানার জামিন বাতিল ও বিচার এবং ওই ভবনের গার্মেন্টস কারখানার মালিকসহ দোষীদের বিচার করতে হবে এবং স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের আমলে শ্রম মন্ত্রণালয় গঠিত সকল কমিটিতে মালিক-সরকারের মনোনীত বশংবদদের বাদ দিয়ে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে।