১৩ জুন শুরু হওয়া তিনদিনব্যাপী বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এ সম্মেলনে ১০০টিরও বেশি দেশের সরকার, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, মিডওয়াইফ, উন্নয়ন সহযোগী এবং পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। মাতৃস্বাস্থ্য, নবজাতক স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি সেবার উন্নয়নে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণই এ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।

এ আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মে বাংলাদেশ তুলে ধরছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের স্বাস্থ্য খাত রূপান্তরের সাহসী ভিশন—যেখানে চিকিৎসাকেন্দ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা থেকে প্রতিরোধকেন্দ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় উত্তরণের মাধ্যমে একটি ‘সুস্বাস্থ্যবান বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

সরকার এরই মধ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহুরে ওয়ার্ডে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যেখানে গর্ভবতী মা ও নবজাতকের জন্য মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা হবে। জটিলতামুক্ত প্রসব এসব প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিটেই সম্পন্ন করার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে প্রত্যন্ত এলাকার নারীরাও ঘরের কাছেই নিরাপদ মাতৃসেবা পেতে পারেন।

এ উদ্যোগকে সফল করতে সরকার দেশের প্রতিটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিটে কমপক্ষে দুজন করে মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল এবং অন্যান্য উচ্চতর স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্তসংখ্যক মিডওয়াইফ পদায়নের মাধ্যমে মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবাকে আরো শক্তিশালী করা হবে।

সরকার আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ বৃহৎ বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী, দক্ষ ও পেশাদার মিডওয়াইফারি কর্মীবাহিনী গড়ে তুলতে চায়, যা মাতৃমৃত্যু ও নবজাতক মৃত্যুহার হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সম্মেলনে অংশগ্রহণ উপলক্ষে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ‘মিডওয়াইফরা মা ও নবজাতকের জীবনরক্ষার প্রথম সারির যোদ্ধা। একটি সুস্বাস্থ্যবান বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার কেন্দ্রে মিডওয়াইফদের স্থান দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা এমন একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি মা নিরাপদ গর্ভধারণ, নিরাপদ প্রসব এবং মানসম্মত পরবর্তী সেবা পাবেন।”আগামী কয়েক বছরে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা বাংলাদেশের মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্য খাতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি শুধু স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বিনিয়োগ।’