ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের বাকেরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ ছয়জন নিহতের ঘটনার পরের দিন গতকাল একই মহাসড়কের উজিরপুর উপজেলায় আরেক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উজিরপুর উপজেলার নতুন শিকারপুর নামক এলাকায় গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের সঙ্গে ঢাকাগামী পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত ও উভয় গাড়ির আরো ১২ যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতরা সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী ছিলেন।
নিহতরা হলেন রুহুল আমিন (৪৫), আব্দুর
রহমান (৪৬), মো.
হাসান (৩৬), নুরুল
আমিন (৪২) ও শহীদুল ইসলাম (৪০)। নিহতরা গাজীপুর কোনাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা। তারা গাজীপুরের কোনাবাড়ী থেকে মাইক্রোবাসযোগে ভ্রমণের জন্য সাগরকন্যা কুয়াকাটার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আহত যাত্রীদের বরাত দিয়ে উজিরপুর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. মমিন উদ্দিন জানান, ঢাকার গাজীপুর থেকে ১২ যাত্রী নিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি কুয়াকাটার উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথে দুর্ঘটনাস্থল অতিক্রমকালে পেছনের ডান পাশের চাকা ফেটে গেলে মাইক্রোবাসটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন চালক। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকাগামী মোল্লা পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় যাত্রীবাহী বাসের সামনের অংশ। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে একজন ও আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নেয়ার পর শহিদুল ইসলাম নামের আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে।
গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি শেখ মো. বেল্লাল হোসেন তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি ফেলে চালক ও হেলপার পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি দুটি সড়কের ওপর থাকায় প্রায় ৩০ মিনিট বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্থানীয়দের সহায়তায় উভয় যান সরিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করেন। দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।










