দিনাজপুরের বিরামপুর সীমান্তে মাদক ব্যবসার পাওনা টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ভারত-বাংলাদেশী চোরাকারবারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আলিম মন্ডল (৪) নামের এক ভারতীয় নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরো এক ভারতীয় ও দুই বাংলাদেশী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আজ শুক্রবার দুপুরে বিরামপুর উপজেলার কাটলা দাউদপুরের জামালপুর সীমান্তে ২৮৯ মেইন পিলারের ২৫ ও ২৬ সাব পিলারের মাঝামাঝি এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত আলিম মন্ডল ভারতের জামালপুর গ্রামের হরমুজ মন্ডলের ছেলে। 

এ ঘটনায় একই এলাকার হাবিবুল মন্ডলের ছেলে আশারুল মন্ডল আহত হয়েছেন, তিনি ভারতের বালুরঘাট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আহত বাংলাদেশীরা হলেন- বিরামপুর উপজেলার ২নং কাটলা ইউপি সদস্য ও দক্ষিণ দাউদপুর গ্রামের মৃত মহির উদ্দিন কবিরাজের ছেলে মইনুল ইসলাম (৩৫) ও তার বড়ভাই মমিনুল ইসলাম (৪৫)। তারা বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

ওই ঘটনায় বিকালে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বার্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে ভারতের ১৯৯ বিএসএফ ব্যটালিয়নের কমান্ডার অজয় কুমার তিওয়াড়ী ও জয়পুরহাট ২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর আবু নাঈম খন্দকার, ভাইগড় বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার শওকত হোসেন ও দাউদপুর বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার হেলাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। 

সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় দেশের জড়িতদের তালিকা করে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে পদক্ষেপ এবং উভয়দেশের নাগরিকদের শান্ত থাকতে বলা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে বিরামপুর উপজেলার দক্ষিণ দাউদপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিকের সঙ্গে ভারতীয় সীমান্তের আলিম উদ্দিনের মাদক ব্যবসার পাওনা টাকা নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। আজ দুপুরে সীমান্তের শূন্য রেখায় নির্মিত মসজিদে নামাজের সময় উভয়পক্ষে আবার বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই আলিম মন্ডল নামের এক ভারতীয় মারা যান। আশারুল মন্ডল নামের অপর এক ভারতীয় ও দুই বাংলাদেশীও এসময় আহত হন। 

বিজিবির ভাইগড় কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার শওকত হোসেন ওই ঘটনায় একভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান তিনি।

জয়পুরহাট ২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর নাঈম বলেন, সীমান্তে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এঘটনায় ওই এলাকায় নতুন করে আর যেন কোনো ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে বাংলাদেশ অংশে গ্রামবাসীদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।