দিনভর দুর্ভোগ শেষে সিলেটে অনির্দিষ্টকালের জন্য ডাকা পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতি স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল বিকাল পৌনে ৪টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বৈঠক শেষে ধর্মঘট তুলে নেয়ার ঘোষণা দেয় জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোসহ পাঁচ দফা দাবিতে এ কর্মসূচি আহ্বান করেছিলেন শ্রমিক নেতারা।

সরজমিনে সিলেট কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডে দেখা যায়, সকাল থেকে দূরপাল্লার কোনো বাসা ছেড়ে যায়নি। সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালেও একই পরিস্থিতি। এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীদের হেঁটে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে দেখা গেছে। অনেকেই আবার পিকআপ, মাইক্রোবাস, অটোরিকশা, থ্রি-হুইলারসহ বিভিন্ন ছোট যানবাহন ব্যবহার করেছে।

নগরীর মদীনা মার্কেটে কথা হয় আরিফ আহমদ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘শ্রমিকরা কতটা বিবেকহীন, আজকের দৃশ্য না দেখলে তা বুঝতেই পারতাম না। অনেক পরীক্ষার্থী সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছতে পারেনি হয়তো। কারণ সড়কে গণপরিবহন ছিল না।’

এর আগে গত রোববার সিলেট কোর্ট পয়েন্টে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে কর্মবিরতি ঘোষণা করে ঐক্য পরিষদ। সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোর প্রতি মাসের লিমিট ১৮-২০ তারিখের পর শেষ হয়ে যায়। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সিএনজিচালিত গাড়িচালকরা।

এদিকে গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসানের সঙ্গে বৈঠক করেন পরিবহন শ্রমিক ঐক্য পরিষদ নেতারা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। সভা থেকে কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন পরিবহন শ্রমিক নেতারা।

এ বিষয়ে সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম জানান, তাদের ঘোষিত কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাসে তারা কর্মসূচি স্থগিত করেছেন।