ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে শুধু প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ হিসেবে নয়, বরং সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার তখনই সফল হবে, যখন এটি মানুষের অংশগ্রহণভিত্তিক জাতীয় উদ্যোগে পরিণত হবে।  জনগণের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা এ আন্দোলনের মাধ্যমেই স্বনির্ভর নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।’ 

গতকাল রাজধানীর পল্টন টাওয়ারে অর্থনৈতিক প্রতিবেদক ফোরামের মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে বিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য জ্বালানি: ভবিষ্যতের সৌরবিদ্যুৎ সমাধান’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) এবং বিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্লাটফর্ম যৌথভাবে এ সেমিনার আয়োজন করে।

অধ্যাপক তিতুমীর বলেন, ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে হলে সবার আগে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার তখনই সফল হবে, যখন এটি মানুষের অংশগ্রহণভিত্তিক জাতীয় উদ্যোগে পরিণত হবে।’ 

তিনি জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিকে মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশের উন্নয়নের প্রচলিত ধারা বদলাতে হলে অধিকারভিত্তিক জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে যেতে হবে। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া দারিদ্র্যের চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে উন্নয়নের চিন্তায় মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে বাজারের সরবরাহের চেয়ে মানুষের চাহিদা সৃষ্টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, মানুষের মধ্যে চাহিদা তৈরি হলে বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবেই সে চাহিদা পূরণে এগিয়ে আসবে।

অধ্যাপক তিতুমীর বলেন, ‘অতীতে যেমন গণশিক্ষা ও জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল, তেমনি নবায়নযোগ্য জ্বালানিকেও ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে গণ-আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এ কাজে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, নাগরিক সমাজ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।’ 

বিশ্বের বর্তমান অনিশ্চয়তাকে তিনি নতুন বাস্তবতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, নির্ভরশীলতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে স্বাবলম্বিতার পথে এগোতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি সে স্বনির্ভরতার অন্যতম ভিত্তি হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘শুধু সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করলেই হবে না। সৌর প্যানেল, ব্যাটারি, বিদ্যুৎ রূপান্তর যন্ত্রসহ প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি দেশেই উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে, আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং দেশের শিল্পভিত্তি আরো শক্তিশালী হবে।’ 

রাজনৈতিক অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি বলেন, ‘গুটি কয়েক গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রিত প্রচলিত জ্বালানি ব্যবস্থার বিকল্প হতে পারে বিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য জ্বালানি। এর মাধ্যমে স্বনির্ভরতা, জ্বালানি গণতন্ত্র এবং অধিকারভিত্তিক উন্নয়নের নতুন ভিত্তি তৈরি হবে।’ 

সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে অধ্যাপক তিতুমীর জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ২০-৩০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার শুধু আর্থিক বা কর-প্রণোদনার ওপর নির্ভর না করে দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সহায়তার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।