ঠাকুরগাঁওয়ে চলতি মৌসুমে ১১২ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ করা হয়েছে যা থেকে প্রায় ৯২ টন বীজ উৎপাদন হবে বলে আশা কৃষকদের। উৎপাদিত এসব বীজের বাজার দাম ধরা হয়েছে প্রায় ২৩ কোটি টাকা। কৃষি অফিসের সহযোগিতা পেলে বীজ উৎপাদন আরো বাড়বে বলে জানান কৃষক।
সরজমিন দেখা গেছে, ঠাকুরগাঁওয়ের মাঠজুড়ে একসময় আবাদ হতো গম, ভুট্টা, আলু ও সরিষা। কৃষি প্রযুক্তির উন্নয়নে এখন বিভিন্ন ধরনের ফসল আবাদ করছেন চাষীরা। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের পতিলাভাসা গ্রামে একটা সময় কৃষকরা আলাদা ফসল চাষাবাদ করলেও এখন উৎপাদন করছেন পেঁয়াজবীজ। গ্রামের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ পেঁয়াজবীজ উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।
কৃষকরা জানান, প্রতি বছরের নভেম্বরে পেঁয়াজবীজ বপনের সঠিক সময়। বীজ পরিপক্ব হতে সময় লাগে ১৩০-১৫০ দিন। পরাগায়ন না হলে পেঁয়াজ ফুলে পরিপক্বতা আসে না। ফুলে পরাগায়নের প্রধান মাধ্যম হলো মৌমাছি। পোকার আক্রমণ থেকে ফসল বাঁচাতে কৃষকরা খেতে কীটনাশক প্রয়োগ করলে মারা পড়ছে উপকারী পোকা ও মৌমাছি। এ কারণে পেঁয়াজ খেতে দিন দিন মৌমাছির আনাগোনা কমে যাচ্ছে। তাই কৃত্রিমভাবে পরাগায়ন করেন চাষীরা।৷
চাড়োল ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল বারেক বিজয় বলেন, ‘প্রতি বিঘা জমিতে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা খরচ করে বিক্রি করা যায় প্রায় ২ লাখ টাকার বীজ। তবে বীজের ন্যায্য দাম পেতে কৃষি অফিসের সহযোগিতা পেলে আরো লাভ হবে।’
এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ভালো দাম পাওয়ায় পেঁয়াজবীজ উৎপাদনে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকের। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাদের বিভিন্ন পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হচ্ছে।’










