ইলিশের চড়া দামের কথা চিন্তা করে রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজারে টুকরো ইলিশ বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মৎস্যজীবী সমিতির উদ্যোগে গতকাল বেলা ১১টায় বিক্রি শুরু হলেও শর্তজুড়ে দিচ্ছেন বিক্রেতারা। ২৫০ গ্রাম ওজনের কম কেনা যাবে না ইলিশ। উপরন্তু দামও দ্বিগুণ।

ক্রেতারা বলছেন, টুকরো ইলিশ মিললেও কিনতে গিয়ে বারবার ভাবতে হচ্ছে তাদের। পুরো মাছের তুলনায় টুকরো ইলিশের দাম দ্বিগুণেরও বেশি। এভাবে ইলিশ কিনে লাভ নেই। তবে বিক্রেতারা বলছেন, কাটা মাছ বিক্রি করতে হলে দাম বেশিই নিতে হবে। তা না হলে বিক্রি করে লাভ হবে না।

রাজশাহী ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ফরিদ মামুদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। একদিন আগে থেকেই ব্যবসায়ী নেতা সেকেন্দার আলী নিজে থেকে এ নিয়ে প্রচারণা চালান। তিনি নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে জানান, বৃহস্পতিবার থেকে ক্রেতা চাইলে এক পিস (টুকরো) ইলিশ কিনতে পারবেন। তবে এদিন সকাল থেকে বাজারে গিয়ে এক পিস ইলিশ কিনতে পারেননি অনেকেই।

ফরিদ উদ্দিন নামে এক ক্রেতার অভিযোগ, যে আকারের ইলিশ মাছ পিস হিসেবে বিক্রির জন্য কাটা হচ্ছে, সেগুলোর কেজি ৭০০-৮০০ টাকার মধ্যেই। অথচ কাটার পর সেই মাছের ২৫০ গ্রামের দাম চাওয়া হচ্ছে ৪০০ টাকা। সে হিসাবে পুরো মাছের চেয়ে কাটা ইলিশ মাছের দাম দ্বিগুণেরও বেশি পড়ছে। হিসাব করলে দেখা যাচ্ছে, লাভের থেকে লোকসানই বেশি।

সাহেব বাজারে আসা শরমিন ফেরদৌস নামের আরেক ক্রেতা বলেন, ‘কাদের জন্য এ উদ্যোগ? অসচ্ছলদের জন্যই যদি এ উদ্যোগ হয়, তবে দাম কেন দ্বিগুণ চাওয়া হচ্ছে? এমন চটকদার বিষয় ফেসবুকে ছেড়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করার কোনো মানেই হয় না। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান পরিচালনা করা উচিত।’

মাছ বিক্রেতা আবদুর রহিম জানান, পুরো একটি ইলিশ মাছ আর পিস করে কাটা মাছ যদি একই দামে বিক্রি করতে হয়, তাহলে তাদের লাভ হবে না। মাছ ২৫০ গ্রামের কম নিলেও তাদের লোকসান হবে। কারণ মাছের আঁশ ও উচ্ছিষ্ট অংশ ফেলে দিলে ওজন কমবে। আবার মাথা ও লেজ অনেকেই নিতে চাইবে না। তাই তারা কাটা ইলিশের দাম একটু বেশি নিচ্ছেন।

এ ব্যাপারে রাজশাহী ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য সৎ। আমরা চেয়েছিলাম ইলিশের স্বাদ ধনী-গরিব থেকে সবাই যেন নিতে পারেন। কিন্তু এমনসব প্রতিবন্ধকতা আসবে তা আগে জানতাম না। কাটার পর এক টুকরো মাছ বিক্রি করলে মাথা অবিক্রীত থেকে যায়। তবে সমস্যার সমাধান করে উদ্যোগটি কীভাবে এগিয়ে নেয়া যায়, সে ব্যাপারে আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে।’