তবে উদ্বোধনের দিনই ১০ ভেন্টিলেটরের মধ্যে নয়টিই অকেজো পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, ২০২০ সালে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি কেনার কারণে এ কারিগরি ত্রুটি ঘটেছে। ফলে সাড়ে পাঁচ বছর ধরে রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তবে দ্রুত এগুলো সচলের আশ্বাস দিয়েছেন জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালটির দপ্তর থেকে জানা গেছে, ২০২০ সালে ১০ শয্যার আইসিইউ ইউনিটে ১০টি ভেন্টিলেটর বরাদ্দ দেয়া হয়। পরে হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটে এগুলো স্থাপন করা হয়। তখন থেকেই এগুলো অব্যহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল।
গত ১৪ জুন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নারায়ণগঞ্জ (ভিক্টোরিয়া) জেনারেল হাসপাতাল থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জসহ দেশের ১০টি জেলার ১০ শয্যার আইসিইউ ইউনিট উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের দিনই গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিটের ১০ ভেন্টিলেটরের মধ্যে নয়টি অকেজো দেখতে পান স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. কেএম বাবর।
গোপালগঞ্জ শহরের ব্যাংকপাড়ার বাসিন্দা মো. আফসারুল আলম বলেন, ‘আইসিইউ সেবা খুবই ব্যয়বহুল। সাধারণ মানুষের কাছে এ সেবা সোনার হরিণ। জেলা শহরে সচরাচর এ সেবা মেলে না। এত বছর হাসাপাতালের আইসিইউ ইউনিটটি অযত্ন-অবহেলায় পড়ে ছিল। এছাড়া এগুলো নিম্নমানের হওয়ায় অধিকাংশই অকেজো হয়ে পড়েছে। আমরা দীর্ঘদিন এ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।’
গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কেএম বাবর বলেন, ‘হাসপাতালটির আইসিইউ ইউনিটে ২০২০ সালে কভিডের সময় সমস্ত যন্ত্রপাতি সেট করা হয়। প্রতিটি বেড রেডি; ভেন্টিলেশন, মনিটরসহ সব যন্ত্রপাতি আছে। কিন্তু এখানে যে ভেন্টিলেটরগুলো দিয়েছে তা একদম সস্তা, যা চালুর আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। আমি এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভেন্টিলেটর মেশিন এনে ১০ শয্যার আইসিইউ ইউনিট চালু করব।’
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেশ বিশ্বাস বলেন, ‘২০২০ সালে আইসিইউ ইউনিটের সরঞ্জাম কেনা হয়। বর্তমানে ১০টি ভেন্টিলেটরের মধ্যে মাত্র একটি সচল রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। তবে আইসিইউ বেড, মনিটরসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি কার্যকর রয়েছে। অকেজো ভেন্টিলেটরগুলো মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগের কাছে পাঠানো হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আইসিইউ ইউনিট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবলেরও ঘাটতি রয়েছে। তবে জনবল বৃদ্ধি ও যন্ত্রপাতি সচল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’
গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মো. ফারুক বলেন, ‘গোপালগঞ্জে ১০টি আইসিইউ বেড প্রস্তুত রয়েছে। ভেন্টিলেটরগুলোর কারিগরি সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এগুলো সচল করা হবে।’










