দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে ম্যানুফ্যাকচারিংনির্ভর অর্থনীতি থেকে ইনোভেশননির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্রিয়েটিভ ইকোনমির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ফ্যাশন ডিজাইন এ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এ খাতে নিজস্ব ব্র্যান্ড ও সৃজনশীল উদ্ভাবনের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরো শক্তিশালী করার বড় সুযোগ রয়েছে।

আজ মঙ্গলবার ঢাকায় বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) নবীনবরণ ও ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম ২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব বলেন, ক্রিয়েটিভ ইকোনমির আওতায় ফ্যাশন ডিজাইনের পাশাপাশি স্থাপত্য, সংগীত, চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপন, অ্যানিমেশন ও গেমিংসহ বিভিন্ন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফ্যাশন ডিজাইনে সৃজনশীলতার পাশাপাশি দেশের নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরির যে সুযোগ রয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে তরুণ প্রজন্মকে বিশ্ববাজারে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য প্রস্তুত হতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের আসলে ম্যানুফ্যাকচারিং থেকে ইনোভেশনের দিকে যেতে হবে। ফ্যাশন ডিজাইনে আমাদের ক্রিয়েটিভিটির যে সুযোগ রয়েছে এবং নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরি করার যে সম্ভাবনা রয়েছে, আমরা তা দেখতে চাই। আপনারাই এ দেশকে সেই জায়গায় নিয়ে যাবেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় শিল্প ও গবেষণা খাতের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপনে গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এ লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় ‘রিসার্চ টু মার্কেট’ ও ‘ইনোভেট টু মার্কেট’—এ দুটি ধারণা নিয়ে কাজ করছে।

তিনি বলেন, ‘রিসার্চ টু মার্কেট’ উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম আরো কার্যকরভাবে এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। বিইউএফটির সঙ্গেও বিসিএসআইআরের গবেষণা ও উন্নয়নমূলক সহযোগিতা রয়েছে। ভবিষ্যতে ফ্যাশন ও টেক্সটাইল খাতে উদ্ভাবন এগিয়ে নিতে এ সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শিল্প খাতের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক পোশাক ব্র্যান্ড এইচঅ্যান্ডএমের সঙ্গেও কাজ করছে। এ সহযোগিতার আওতায় জ্বালানি ও পানির ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং রাসায়নিকের ব্যবহার কমানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞান সচিব বলেন, ‘ইনোভেট টু মার্কেট’ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য উদ্ভাবনী পণ্য ও সেবাকে বাণিজ্যিকভাবে সফল করার পথ তৈরি করা এবং উদ্ভাবনকে বাজারের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করা। গবেষণা ও উদ্ভাবনের ফলাফল যাতে শুধু গবেষণাগার বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং মানুষের ব্যবহার ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাস্তব অবদান রাখতে পারে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

জাতীয় পর্যায়ে ইনোভেশন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে সচিব বলেন, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আগারগাঁওয়ে নভোথিয়েটারে তিন দিনব্যাপী 'বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬' আয়োজন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ মেলার উদ্বোধন করবেন। মেলার মাধ্যমে দেশের উদ্ভাবক, গবেষক, শিল্পখাত, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করে একটি শক্তিশালী ন্যাশনাল ইনোভেশন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ইনোভেশনের ক্ষেত্রে মেধাস্বত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস উদ্ভাবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উদ্ভাবকদের মেধাস্বত্ব সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

তিনি বলেন, দেশের ইনোভেশন ইকোসিস্টেমের ক্ষেত্রে ফাইন্যান্সিং একটি বড় গ্যাপ এবং পলিসি সাপোর্টও একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। করপোরেট ও বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করতে নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। এসব বিষয়কে সামনে রেখে জাতীয় ইনোভেশন ইকোসিস্টেম প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে শুধু চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিলে হবে না; বরং জ্ঞান, সৃজনশীলতা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে নতুন সুযোগ তৈরি করতে হবে। দেশের অর্থনীতি ও শিল্পের রূপান্তরে তরুণ প্রজন্মকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে তিনি বিইউএফটির উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্টদের প্রতি দেশের ফ্যাশন, টেক্সটাইল ও ক্রিয়েটিভ ইকোনমির উন্নয়নে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়টির পক্ষ থেকে প্রধান অতিথিকে গাছের চারা উপহার দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আইয়ুব নবী খান, বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ফারুক হাসান, সদস্য মোহাম্মদ নাসির, স্নোটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকএস এম খালেদসহ বিভিন্ন ফ্যাকাল্টির ডিন এবং চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।