আজ সোমবার (২৮ অক্টোবর) প্রধান উপদেষ্টার তেজগাঁও কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সৌদি রাষ্ট্রদূত ইসা ইউসুফ ইসা আল দোহাইলানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে এ আহ্বান জানান ড. ইউনূস।

তিনি বলেন, সৌদি আরবের বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ সমর্থন দেয়ার এটাই উপযুক্ত সময়। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ককে ‘অনন্য’ এবং অন্যান্য দেশের থেকে ‘আলাদা’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ড. ইউনুস সৌদি সরকারের কাছে বাংলাদেশ ব্যাংকে তহবিল জমা দেয়ার প্রস্তাব পৌঁছে দেয়ারও অনুরোধ করেন, যাতে অর্থনৈতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে তারল্য সহায়তা বাড়ানো যায়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি এটি একটি চমৎকার উদারতার দৃষ্টান্ত হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি সৌদি আরবের কাছে বিদ্যুৎ ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের ছাড়কৃত সরবরাহ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশের যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান, যাতে দক্ষ শ্রমিক সৌদি আরবে পাঠানো সম্ভব হয়।

রাষ্ট্রদূত আল দোহাইলান সৌদি আরবে বাংলাদেশি প্রবাসীদের অবদানের প্রশংসা করে বলেন, আরো দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তারা উচ্চ বেতন এবং বেশি পরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে পাঠাতে সক্ষম হবেন। বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ বাংলাদেশি সৌদি আরবে কর্মরত আছেন, যারা প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠান।

রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশি অভিবাসী ও মুসলিম হজযাত্রীদের প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজার ভিসা প্রদান করে সৌদি আরব। ২০২৩ সালে প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৭ শতাংশ বেশি।

রাষ্ট্রদূত জানান, সৌদি আরব বাংলাদেশের বন্দরের খাতে, বিশেষ করে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে অ্যাকওয়া পাওয়ারের মাধ্যমে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। এই বিনিয়োগে সহায়তার জন্য প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের সমর্থন চায় রিয়াদ।

তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে সৌদি জাতীয় দিবস উপলক্ষে দুটি শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান করেন। শুভেচ্ছা বার্তা দুটি পবিত্র মসজিদের খাদেম রাজা সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ এবং ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের কাছ থেকে এসেছে।

সৌদি রাষ্ট্রদূত বলেন, আমার সরকার বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা দেখতে চায় এবং বাংলাদেশ সরকারকে সমর্থন করতে প্রস্তুত।

তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে সৌদি আরবের জাতীয় পাখি বাজপাখির একটি প্রতিকৃতি এবং পবিত্র কোরআনের একটি কপি উপহার দেন।