সার সংরক্ষণ ও বিতরণের সুবিধার্থে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৩৪টি বাফার গুদাম নির্মাণের জন্য প্রকল্প নেয়া হয়েছিল। এর মধ্যে দেশের আট জেলায় আটটি বাফার গুদাম নির্মাণকাজের ক্রয় প্রস্তাব বাতিল করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটি। অর্থ, বাণিজ্য এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে গতকাল অনুষ্ঠিত ক্রয় কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া সভায় সার কেনার দুটি প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।

ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে, বগুড়ায় ২০ হাজার টন, নওগাঁয় ২৫ হাজার, কুমিল্লায় ২৫ হাজার, লক্ষ্মীপুরে ১০ হাজার, মানিকগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে ১৫ হাজার, ঠাকুরগাঁও ও রংপুরে ২০ হাজার টন সক্ষমতার বাফার গুদাম নির্মাণকাজ উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের জন্য ক্রয় প্রস্তাব বাতিলের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।

এছাড়া গতকালের সভায় সৌদি আরব ও কাতার থেকে পৃথক দুটি প্রস্তাবের বিপরীতে ৬০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২৩৬ কোটি ৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে ৩০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানিতে ব্যয় হবে ৯৮ লাখ ৩৪ হাজার ৯০০ ডলার বা সমপরিমাণ বাংলাদেশী মুদ্রায় ১১৮ কোটি ১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। প্রতি টনের মূল্য ধরা হয়েছে ৩২৭ দশমিক ৮৩ ডলার।

রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে কাতার থেকে ৩০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানিতে মোট ব্যয় হবে ৯৮ লাখ ৩৪ হাজার ৯০০ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বাংলাদেশী মুদ্রায় ১১৮ কোটি ১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। প্রতি টনের মূল্য ধরা হয়েছে ৩২৭ দশমিক ৮৩ মার্কিন ডলার।

বৈঠক শেষে উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমন শেষ হওয়ার পর বোরোতে সব থেকে বেশি সারের প্রয়োজন হবে। বৈঠকে সার আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি, সার ও খাদ্যদ্রব্যের কোনো ঘাটতি হবে না। যেখান থেকে পারি আমরা সংস্থান করেছি। মজুদও ভালো রয়েছে আমাদের। সার আসতেই থাকবে।’

এদিকে গতকাল অর্থ, বাণিজ্য এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় জিটুজি ভিত্তিতে চাল ও গম কেনার নীতিগত অনুমোদন ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ক্রয় প্রক্রিয়ার সময় হ্রাস করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে চাল ও গম আমদানির সময় ৪২ দিন থেকে কমিয়ে ১৫ দিন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘চাল ও গম আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আমরা চাই না কোনোক্রমে খাদ্যঘাটতি পড়ুক। শিগগির দরকার নেই। কিন্তু আমাদের স্টকে রাখার জন্য দুই লাখ টন চাল ও চার লাখ টন গম আমদানি করার জন্য অ্যাপ্রোচ করেছি।’