বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে গতকাল দুপুরে সাক্ষাৎ করে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরই মধ্যে তার আসন শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উচ্চ পর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত বুধবার রাতে ফেরদৌসীকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে দল থেকে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানিয়ে দেয়া হয়েছিল তাকে।

সে অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে গতকাল সাক্ষাৎ করেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। তখনই আলোচনায় আসে যে তিনি পদত্যাগ করেছেন। তবে স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে ফেরদৌসী আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাকে স্পিকার ডেকেছেন, তার সঙ্গে দেখা করেছি।’ পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপির সিদ্ধান্ত যেটা হবে, তা হবে।’

সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুর এলাকার বেসরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে যে হামলার ঘটনা ঘটেছে, এর সঙ্গে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। যদিও শুরু থেকেই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করে আসছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হওয়ার পর গত বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, বিএনপির ওই নারী এমপির বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

জানা যায়, প্রাথমিক তদন্তে মিষ্টির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা মেলায় তাকে সংসদ সদস্যের পদ ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিতেই বিএনপি সরকার এমন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।

রাড্ডা সেন্টার গুঁড়িয়ে দেয়ার পর আলোচনায় আসা ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর কার্যক্রমেও স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন যুক্ত বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ফেরদৌসী আহমেদ ২০০৬ সালে শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার থাকাকালে ওই সমিতির সভাপতি ছিলেন। তখন ওই সমিতির নামে রাড্ডা সেন্টারের জায়গাটি বরাদ্দ দেয়ার জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত কর্তৃপক্ষের কাছে যে আবেদন করা হয়েছে, তাতে সভাপতি হিসেবে সই করেছিলেন ফেরদৌসী আহমেদ।

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বিএনপির মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে এর পাঁচ মাসের মধ্যেই গতকাল তাকে সংসদ সদস্য পদ ছাড়তে হলো।

সম্পূর্ণ ‘সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায়’ সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন ফেরদৌসী আহমেদ। স্পিকারকে দেয়া পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আমি ফেরদৌসী আহমেদ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য (সংরক্ষিত মহিলা আসন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমি সম্পূর্ণ সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় জাতীয় সংসদের সদস্য (সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩) পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। অতএব, বিনীত প্রার্থনা এই যে আমার পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করে পদত্যাগ কার্যকর করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আপনার সদয় মর্জি হয়।’